মাটির নাম
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্য কবিতা । ২১ জুন,২০২৬
শিরার ভেতর খুঁজিনি তোমাকে,
খুঁজেছি উঠানের সেই পুরোনো মাটিতে
যেখানে বাবা সন্ধ্যায় বসে নীরবে জুতো থেকে ধুলো ঝাড়তেন,
আর মা ভেজা কাপড় মেলে দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতেন।
তোমাকে পেয়েছি স্কুলের ভাঙা বেঞ্চে,
যেখানে পেন্সিল দিয়ে লেখা ছিল
কত নাম, কত অসমাপ্ত স্বপ্ন।
এই দেশকে আমি শুধু পতাকায় দেখিনি,
দেখেছি রান্নাঘরের ধোঁয়ায়,
দেখেছি ক্ষেতে ফেরা ক্লান্ত মানুষের চোখে,
দেখেছি বৃদ্ধ মায়ের আলমারিতে রাখা
একটা পুরোনো সাদা-কালো ছবিতে।
তবু মাঝে মাঝে ভয় হয়
কোন অন্ধ রাগ এসে
আমাদের এত কাছের মানুষগুলোকে
এত দূরে ঠেলে দেয়?
কেন একই উঠানের ছায়ায় বড় হওয়া মানুষ
একদিন একে অপরের দিকে
অপরিচিত চোখে তাকায়?
আমি উত্তর খুঁজি না আর।
কারণ কিছু ক্ষত শব্দ দিয়ে বোঝানো যায় না।
শুধু দেখি,
বাবার পুরোনো চিঠিগুলোর ভাঁজে,
মায়ের প্রার্থনার শব্দে,
একটা দেশের নীরব কষ্ট জমে আছে।
যারা চলে গেছে,
তারা শুধু ইতিহাসের পাতায় নেই।
তারা আছে সকালের খালি বারান্দায়,
পুরোনো ঘড়ির থেমে যাওয়া কাঁটায়,
আর সেই সব মানুষের মুখে
যারা এখনও বিশ্বাস করতে চায়
এই মাটি একদিন আবার মানুষের মতো মানুষের হবে।
তাই আজও যখন মুঠোয় একটু মাটি নিই,
মনে হয়,এ শুধু মাটি নয়।
এখানে কারও চোখের জল আছে,
কারও অপেক্ষা আছে,
কারও ফিরে আসার অসমাপ্ত গল্প আছে।
এখানেই আমার নাম লেখা।
এখানেই তোমারও।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।