বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যা
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
লেখক ও সাহিত্য গবেষক
গদ্যকবিতা | ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬
আজ বিকেলে মেঘ নেমে এসেছিল খুব নিচে।
পুকুরপাড়ের কাঁচা পথে হাঁটে গিয়ে কাদার ভেতর থেকে উঠল টক গন্ধ—
মায়ের ধোয়া নীল শাড়ির ভেজা সুতো,
দাদার রেডিওর কাঁপা শব্দ,
টিনের ছাদে চাপা ভাতের হাড়ির ঢাকনা।
গলির মাথায় জা জলে উল্টো আকাশ নেই—
ভাসছে ভাঙা ল্যাম্পপোস্ট,
এক টুকরো লাল পোস্টার, ডিসেম্বর ২০১৯।
আঠা এখনো নরম; আঙুলে লাগে।
ড্রেনের জলে কাগজ নড়ে,
মাইকবিহীন এক প্রচার শেষ হয়ে যায়।
ছাতার নিচে ফোনটা বের করি।
তোমার নাম সেভ আছে “বৃষ্টি”—
ডায়াল করি না।
স্ক্রিনের কাঁচে জল জমে থাকে,
আঙুল মুছতে মুছতে দেখি নিজের মুখটাই অস্পষ্ট।
বারান্দায় বাতি জ্বলে।
হলুদ আলোয় শুকোতে দেওয়া স্কুলড্রেস—
আমারই, ক্লাস সেভেন;
পকেটে এখনো শক্ত হয়ে আছে ভাঙা ক্রেয়ন,
যে রং উঠেনি ধোয়া সাবানে।
চা-র কাপে আদার ঝাঁঝ,
চামচ ঠোকা শব্দে কারও হাসি মনে পড়ে না—
শুধু টিনের ছাদে ফোঁটা গোনা যায়।
এক, দুই, তিন…
পাঁচে এসে থেমে যাই।
পাঁচ বছর আগের সেই রাত,
তুমি বলেছিলে—“বৃষ্টি মানে তোমাকে মনে পড়ে।”
আমি বলিনি,
বৃষ্টি আমার আগে থেকেই ছিল।
কাদায় পা ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি।
বিদ্যুতের আলোয় রাস্তা চকচক করে,
কিন্তু কাদার নিচে থাকে পায়ের দাগ—
চেনা, অচেনা, মুছে না যাওয়া।
রাত নেমে এলে দেখি,
দেয়ালে আর কিছু লিখি না।
কাদায় আঙুল টেনে লিখি—“তুমি আসবে।”
পানি উঠে আসে, অক্ষর ভেসে যায়,
আবার লিখি, আবার মুছে যায়।
বৃষ্টি থামলে বাতি নিভে যায়।
অন্ধকারে বসে শুনি টুপটাপ শব্দ—
মনে হয়,
দেয়ালের ভেতর কোথাও
এখনো শুকোয়নি সেই ক্রেয়নের নীল।
#বৃষ্টিসন্ধ্যা #গদ্যকবিতা #বাংলাকবিতা #নিঃশব্দঅনুভূতি #স্মৃতিপট #অকথিতকথা #হারানোঠিকানা
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।