শিকড়ের টান
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্য কবিতা
২৭ জুলাই, ২০২৬
একসময় প্রায় সবাই ভাবে,
সুখ বুঝি কোথাও দূরে অপেক্ষা করে আছে।
তাই একদিন চেনা বাড়ি, পরিচিত উঠোন, পুরোনো দরজা, গাছপালা, মানুষ,
সব ফেলে নতুন পথে হাঁটা শুরু হয়। তখন মনে হয়, এটাই ঠিক সিদ্ধান্ত।
কিন্তু দূরে গিয়ে একটা সময় বোঝা যায়,
বাড়ি শুধু চারটা দেয়াল নয়।
বাড়ি মানে সেই ঘর, যেখানে ছোটবেলার হাসি এখনো লেগে আছে।
সেই বারান্দা, যেখানে সন্ধ্যা নামলেই কেউ না কেউ ডাক দিত।
সেই মানুষগুলো, যারা ভালোবাসত,
কিন্তু ভালোবাসার কথা মুখে বলতে পারত না।
নতুন শহরে আলো অনেক।
রাস্তা বড়, দালান উঁচু, সুযোগও হয়তো বেশি। তবু সবকিছুর মাঝেও হঠাৎ একদিন মনে হয়, ভেতরে যেন কিছু একটা নেই।
তখন গ্রামের সরু পথ, উঠোনের ধুলো, বৃষ্টির গন্ধ—এসব অকারণেই মনে পড়তে থাকে।
মানুষেরও শিকড় আছে।
সেটা চোখে দেখা যায় না, কিন্তু হারিয়ে গেলে টের পাওয়া যায়। নিজের ভাষা, নিজের মানুষ, নিজের সংস্কৃতি থেকে অনেক দূরে সরে গেলে একসময় নিজের কাছ থেকেই একটু একটু করে দূরে চলে যাওয়া হয়।
সময় বদলাবে, মানুষ বদলাবে,
জীবনও বদলাবেএটাই স্বাভাবিক।
কিন্তু বদলাতে গিয়ে যদি নিজের ভেতরের মানুষটাকেই হারিয়ে ফেলি,
তাহলে এত পথ চলার মানে কী?
যেসব স্মৃতিকে আজ তুচ্ছ মনে হয়, একদিন সেগুলোই সবচেয়ে বেশি ফিরে ফিরে আসবে।
তাই পৃথিবী দেখো, নতুন স্বপ্নের পেছনে ছুটো।
কিন্তু নিজের ভেতরে একটা ছোট্ট উঠোন রেখে দিও। যেখানে মায়ের ডাক এখনো শোনা যায়,
বাবার নীরবতাও ভরসা দেয়,
আর পুরোনো দিনের গন্ধ নিঃশব্দে পাশে বসে থাকে।
শেষ পর্যন্ত মানুষ তার পরিচয়ে নয়, সাফল্যে নয়—সে বেঁচে থাকে তার শিকড়ে।
আর যে নিজের শিকড়কে ভুলে যায় না,
সে পৃথিবীর যেখানেই থাকুক,
একদিন না একদিন নিজের পথ খুঁজে নেয়।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।