একা বৃষ্টির ভেতর
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্য কবিতা । ০১ জুন , ২০২৬
অন্ধকারে একা আমি ভিজতে থাকি।
মাথার ওপর কোনো মেঘের ছাউনি নেই,
নেই কোনো চেনা হাতের ছোঁয়া।
শহরটা যখন ঘুমের চাদরে ডুবে যায়,
রাস্তার বাতিগুলোও যেন ক্লান্ত চোখ বন্ধ করে ফেলে,
ঠিক তখন আমার জানলার কার্নিশ বেয়ে
নেমে আসে হাজারো স্মৃতির জলকণা।
বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা যেন
এক একটা পুরনো কথা,
যা মাটির গন্ধে মিশে গিয়ে
আমাকে মনে করিয়ে দেয়—
কিছু একাকীত্ব একান্তই নিজের,
কিছু ভেজা রাত শুধু
নিঃশব্দে বয়ে যাওয়ার জন্যই জন্মায়।
বাইরের পৃথিবী তখন অনেক দূরে সরে যায়,
শুধু শব্দ থাকে—
টিনের ছাদের ওপর অনবরত টোকা,
আর ভেতরের বুকের ভেতর
অদৃশ্য কোনো ভারী নড়াচড়া।
আমি ভিজি,
আর আমার সাথে ভিজে যায়
জমানো সব অভিমান,
না বলা সব কথার পলিমাটি,
আর সেই দীর্ঘ নীরবতা
যা দিনের আলোয় কখনো উচ্চারণ পায়নি।
অন্ধকারের এই শীতল আলিঙ্গনে
কখনো কখনো মনে হয়—
আমি হারাচ্ছি না,
আমি বরং ধীরে ধীরে খুলে যাচ্ছি।
যেন বৃষ্টির হাত ধরে
নিজের ভেতরের জমাট অংশগুলো গলে যাচ্ছে,
যেখানে দুঃখ আর স্বস্তির মাঝখানে
কোনো স্পষ্ট সীমানা নেই।
শহর তখনও ঘুমিয়ে থাকে,
কিন্তু আমার ভেতরে
একটা অচেনা জাগরণ নড়ে ওঠে—
নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার
এক অদ্ভুত, নীরব নেশা।
কখনো মনে হয়,
এই বৃষ্টি শুধু আকাশ থেকে নামে না—
এটা ভেতরেরই কোনো পুরোনো কষ্টের
বাষ্প হয়ে ফিরে আসা।
জানলার কাচে জমে থাকা ফোঁটাগুলো
ধীরে ধীরে লম্বা রেখা টানে,
যেন কেউ ভেতর থেকে
চুপচাপ দরজা খুঁজছে।
আমি তাকিয়ে থাকি সেই রেখাগুলোর দিকে,
আর বুঝতে পারি—
একাকীত্ব আসলে শূন্যতা না,
একটা পূর্ণ হওয়ার অদ্ভুত প্রক্রিয়া।
যেখানে কেউ নেই বলেই
নিজের ভেতরটা আরও স্পষ্ট শোনা যায়।
বৃষ্টি থামলেও
তার শব্দ রয়ে যায় মাটির নিচে,
আর আমি রয়ে যাই
একই জানালার সামনে—
অর্ধেক ভেজা, অর্ধেক জেগে।
#বাংলাকবিতা #কবিতা #আধুনিককবিতা #বৃষ্টি #একাকীত্ব #রাত #নিঃসঙ্গতা #গদ্যকবিতা #বাংলাসাহিত্য #অনুভূতি
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।