নীরবতার বিরুদ্ধে একটি সন্ধ্যা
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্যকবিতা | ফেব্রুয়ারি ০২,২০২৬
সহস্র সন্ধ্যার পরে কিঞ্চিৎ ঘাবড়ে যাওয়া দুই জোড়া চোখ মুখোমুখি বসে থাকে—
মাঝখানে এক সমুদ্র অবিশ্বাস,
যার ঢেউ শব্দহীন, অথচ গভীর।
কোথাও কোনো কথা নেই,
শব্দেরা যেন বহু আগেই নিজেদের পরাজয় মেনে
অন্য কোনো মুখে আশ্রয় নিয়েছে।
এই টেবিল, এই আলো,
এই সন্ধ্যা—সবাই জানে,
আর কিছু বলার বাকি নেই।
হে নীরবতা,
আমার আদিপুরুষের কসম,
তোমার ঘরদোর, বসতভিটে,
এই চোখের ভেতরে গড়া অন্ধ আশ্রয়—
একদিন ভেঙে চুরে ভাসিয়ে দেবো শুভ্র মেঘের পেখমে।
তুমি যে নির্বাক থেকেও এত কথা জমাও,
এত ভুল বোঝাবুঝির নিঃশব্দ কারিগর—
এই অপরাধের হিসেব একদিন দিতেই হবে।
একদিন কথার স্রোত নিজের পথ নিজেই খুঁজে নেবে,
ভেসে যাবে চোখের মাঝখানে তোমার পোষা বুদবুদ-দুর্যোগ।
ভেঙে পড়বে অজানা দ্বিধার বাঁধ,
আর ভাষা ফিরে পাবে নিজের হারানো স্বর।
সেই দিন কোনো এক সন্ধ্যার পৃথিবী
আবারও থমকে দাঁড়াবে,
বিমুগ্ধ চোখে পাঠ করবে জোড়ায় জোড়ায় ভেসে যাওয়া জোনাকির নৃত্য।
অবিশ্বাস তখন ক্লান্ত হবে,
চোখ দুটো শিখে নেবে নতুন করে তাকানোর ব্যাকরণ।
নীরবতা হেরে যাবে,
আর মানুষ—
অবশেষে মানুষ হয়ে উঠবে।
কিন্তু এই রাতের মধ্যেও,
চুপচাপ নিঃশ্বাসে আমি শিখি,
যত গভীর অন্ধকার,
তত বড় আলো ভিতরে থাকে।
চোখের কোণায় জমে থাকা অশ্রু,
নীরবতার জন্য নয়—
প্রতি মুহূর্তের জীবনের সাক্ষী।
আমরা যখন হেঁটে চলি সেই নির্জন করিডোরে,
শব্দেরা পেছনে ছুটে আসে,
অদৃশ্য পদচিহ্ন রেখে যায়।
এই পদচিহ্ন মনে করিয়ে দেয়,
অবিশ্বাস থাকলেও,
ভালোবাসা—
চোখের ভেতরে লুকিয়ে থাকা—
শেষ পর্যন্ত পথ দেখাবে।
প্রতিটি নিশ্বাসে, প্রতিটি অন্তরালে,
জোনাকি নাচে অবিরাম।
যার আলো অল্প হলেও সব অন্ধকারের চেয়ে শক্তিশালী।
আর আমরা, দুই চোখ,
নীরবতার মধ্যে বসে বসে
শিখছি, ভুল বোঝাবুঝির মাঝেও
মানবতা কখনও হারায় না।
একদিন তুমি, নীরবতা,
দেখবে, তোমার অধিষ্ঠান ভেঙে গেছে।
চোখের বুদবুদ ভেসে গেছে,
কথার নদী প্রবাহিত হয়েছে,
জোনাকি আবার নাচছে—
এবং আমরা, অবশেষে,
নিঃশব্দ থেকে মুক্ত।
#বাংলা_কবিতা #নীরবতা #সন্ধ্যার_কবিতা #সমকালীন_কবিতা #অবিশ্বাস #জোনাকির_নৃত্য #মানবিক_অনুভূতি #LiteraryBangla
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।