নির্বাসনের আগে একটি দৃশ্য
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
বিশ্লেষণধর্মী। মে ০৯, ২০২৬
হাত বাড়াই।
শূন্যতা ছাড়া কিছু ফেরে না।
মানবতার গল্পগুলো আমি শুনেছি—
মসৃণ, পরিপাটি, সুন্দর করে সাজানো।
কিন্তু সেগুলো কখনো দরজায় কড়া নাড়ে না।
আমি শুধু একদিন প্রশ্ন করেছিলাম,
এই বেঁচে থাকাটা আসলে কী?
রাতের ভাতের প্লেটে আঙুল গুনে চাল তুলে দিই,
দুটো মেয়ের বই বন্ধ হয়ে থাকে কোণের তাকেতে,
চার মাসের ভাড়া জমে উঠে দেয়ালে—
এইটাই কি জীবন?
আমার অপরাধ ছিল এতটুকুই,
আমি চুপ করে থাকিনি।
যখন ভাঙছিলাম,তখন কেউ আসেনি।
না কোনো মানুষ।
তাই বলেছিলাম,এই যত গল্প, যত উচ্চারণ—
অনেকটাই হয়তো আলোর নিচে দাঁড়িয়ে
অন্ধকার লুকানোর কৌশল।
এই কথাগুলোই সহ্য হয়নি
এই মুখোশ পরে থাকা মানুষগুলোর কাছে।
আমাকে দাঁড় করানো হলো কাঠগড়ায়।
চারপাশে চোখ, সবাই জানে কী বলতে হবে,
কিন্তু কেউ শুনতে চায় না।
রায় খুব সংক্ষিপ্ত—নির্বাসন।
আমি নাকি সত্যের চেয়ে বেশি অস্বস্তিকর।
তাই দেয়ালের ভেতর থেকেও
আমার ছায়াটা মুছে ফেলার চেষ্টা।
তবু শেষবার জানতে চেয়েছিলাম,
আমি তো কাউকে ভাঙিনি,
কোনো ঘর, কোনো নিয়ম—কিছুই না।
তাহলে এই শাস্তি কেন?
কেউ উত্তর দেয়নি।
চেয়ারে বসা প্রবীণ লোকটা
মুখ ফিরিয়ে নিলো।
তার হাতে থাকা কলমটা
চাপা রাগে ভেঙে ফেলল—
যেন শব্দেরও আর কোনো প্রয়োজন নেই।
আর আমি দাঁড়িয়ে রইলাম,
সেই নীরবতার ভেতর—
যেখানে প্রশ্নগুলো টিকে থাকে,
কিন্তু উত্তরগুলো ইচ্ছে করেই হারিয়ে যায়।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।