ভেজা কথা
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্য কবিতা। ০৩ আগষ্ট, ২০২৬
কদিন ধরে আকাশটা আর খুলছেই না।
সকাল হোক, বিকেল হোক —হয় ঝিরঝির,
নয় ঝমঝম।
ছাদের কার্নিশ বেয়ে টুপটাপ জল পড়ে,
রাস্তায় জমে থাকে কাদা।
জানালার কাচ মুছলেও পাঁচ মিনিট পর আবার ঝাপসা।
বাইরেটা যেমন দেখা যায় না, ভেতরটাও তেমনই।
কথা বলতে গেলেই গলা আটকে আসে।
কী দিয়ে শুরু করব, বুঝি না।
যা বলি, তার অর্ধেক আসল কথা নয়,
আর যেটা আসল, সেটাই বলা হয় না।
তুইও তো এমনই ছিলি, হেসে উড়িয়ে দিতি সব,
অথচ চোখে লেগে থাকত অন্য কিছু।
বৃষ্টি নামলেই পুরোনো জিনিস ফিরে আসে।
মনে আছে?
ছাতা ছিল, তবু ভিজেছিলাম আমরা।
তুই রেগে গিয়েছিলি,
তারপর নিজেই হেসে ফেলেছিলি।
ভেজা জামা শুকোতে সময় লেগেছিল,
হাসিটা শুকোয়নি।
এখনো ভেজাই রয়ে গেছে।
মাটি থেকে ভেজা গন্ধ উঠলেই
তোর কথা মনে পড়ে।
ভেবেছিলাম সামলে উঠেছি,
আসলে কিছুই সামলাইনি।
জল পড়লেই বোঝা যায়, সব ভেতরেই জমে ছিল।
রাতে বৃষ্টি থামলে চারপাশ অদ্ভুত চুপচাপ হয়ে যায়।
দূরে কোথাও গাড়ির শব্দ, তারপর আবার নীরবতা।
আমি বসে থাকি।
কোনো কাজ নেই, তবু উঠি না।
হঠাৎ তোর নামটা মাথায় আসে।
ডাকি না। দরকার নেই। তবু আসে।
অনেক কথা ছিল বলার।
ভাবতাম, সময় তো আছে।
এখন বুঝি, সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না।
কথাগুলো থেকে যায়, মানুষটাই থাকে না পাশে।
জানালার কাচ বেয়ে ফোঁটাগুলো ধীরে ধীরে নামে।
মনে হয়, ওরাই সব জানে, কোথায় চুপ করে ছিলাম,
কোথায় জেদ করেছি, কোথায় একটু বললেই
সব বদলে যেতে পারত।
শহরের মানুষ ছাতা মাথায় হাঁটে।
আমি মাঝে মাঝে ইচ্ছে করেই ভিজি।
ভিজলে বোঝা যায় না কোনটা বৃষ্টির জল,
কোনটা অন্য কিছু।
সবাই বলে, ঠিক হয়ে যাবে।
হয়তো যাবেও।
কিন্তু ভেতরে কিছু জায়গা থাকে
যা আর পুরোপুরি শুকোয় না।
সেখানে জল থমকে থাকে।
সামনে উৎসব আসবে, আলো জ্বলবে,
আমিও থাকব, হাসবও।
তবু জানি,
এমন ভেজা দুপুর এলে আবার সব মনে পড়বে।
তোর কথা বৃষ্টির মতো, হঠাৎ শুরু হয়,
ধীরে নামে, আর সহজে থামতে চায় না।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।