এক গুচ্ছ রজনীগন্ধা
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্যকবিতা। জানুয়ারি,০৩, ২০২৬
জানালা দিয়ে সামনের দিকে তাকিয়ে আছি।
সামনে, ছোট্ট এক খরগোশছানা
দুপুরের রোদে গা ছড়িয়ে নিচ্ছে সামান্য উত্তাপ।
আজ আকাশটা অদ্ভুত রকম মেঘশূন্য।
গত রাতে এক ফোঁটাও ঘুম আসেনি।
ঘুমহীন চোখের নিচে তোমাকে নিয়ে
কি আর সত্যিই ঘুমানো যায়?
আজ চোখে তেমন আলো নেই,
মনে হচ্ছে—চশমা পরা দরকার।
আজ চশমা পরব।
আজ গায়ে দেব সাদা, শুভ্র পাঞ্জাবি।
শুভ্র পাঞ্জাবি তোমার ভীষণ পছন্দের।
একবার এই পাঞ্জাবিতেই
তুমি হাতের কাজে লিখেছিলে আমার নাম।
জানো, সেটা কোথায় যেন হারিয়ে গেছে।
মোড়ে একটা ফুলের দোকান আছে—
ফুলওয়ালাকে আগেই বলে রেখেছি
এক গুচ্ছ রজনীগন্ধার কথা।
জানি, রজনীগন্ধা দেখলে তুমি হাসবে।
চোখভরা ভালোবাসা নিয়ে বলবে,
“তাহলে তোমার মনে আছে?”
আমি কিছুই বলব না,
শুধু তোমার হাসিটা চেয়ে চেয়ে দেখব।
জানি, আজ তুমি একটু রাগ করবে।
মুখ ঘুরিয়ে বসে সময় জানতে চাইবে।
আমি বলতে পারব না—
তোমার দেওয়া ঘড়িটা যে আর চলে না।
আবার জানতে চাইবে, আর কী এনেছি।
এখনও বেতন হয়নি।
শত অভাবের মধ্যেও
তোমার পায়েলখানি সঙ্গে করে এনেছি।
তোমার পায়ে পরিয়ে দেব।
অভিমানী কণ্ঠে বলবে,
“এত দেরি করলে কেন?”
তোমার মুখে এই কথাটা শোনার জন্যই
যে আমি দেরি করি—
তা হয়তো কোনোদিন বুঝবে না।
রোদে রোদে উত্তাপ বয়ে যায়।
জানি, সন্ধ্যা নেমে আসবে।
কথা আদায় না করে তুমি ছাড়বে না।
তাই এক গুচ্ছ রজনীগন্ধা
তোমার বুকের ওপর রেখে,
শেষবারের মতো তোমার দিকে তাকিয়ে
ধীরে ধীরে ফিরে যাব নিজের পথে—
তোমার চলে যাওয়ার বার্ষিকীতে।
#একগুচ্ছরজনীগন্ধা #গদ্যকবিতা #ভালোবাসারস্মৃতি #বিরহ #প্রতীক্ষা
#বাংলাসাহিত্য #মানুষেরকথা #নীরবভালোবাসা
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।