বৃষ্টির পরে যে অনুভবটি বেঁচে থাকে
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্যকবিতা | ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২৬
রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হয়েছিল,
কোনো ঘোষণা ছাড়াই,
ঠিক যেমন হঠাৎ কোনো স্মৃতি মানুষের ভেতর ঢুকে পড়ে।
শব্দগুলো প্রথমে এলোমেলো ছিল,
তারপর ধীরে ধীরে ছন্দ শিখে নিল।
মনে হলো—শহর নিজেই নিজের দিকে তাকিয়ে আছে, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক ক্লান্ত মানুষ।
দূরের ভবনগুলো অন্ধকারে ভেসে ছিল,
আলো নয়, কেবল উপস্থিতি দিয়ে চেনা যায় এমন।
উচ্চতা তখন আর স্থাপত্য নয়,
এক ধরনের দূরত্ব—মাটি আর মনের মাঝখানে।
বৃষ্টির ফোঁটায় সময় গলে যাচ্ছিল,
এক মিনিট আরেক মিনিটকে চিনতে পারছিল না।
আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম,
দেখার ভান করে আসলে শুনছিলাম—
নিজের ভেতরের নড়াচড়া।
কিছু দৃশ্য আসে,
কিন্তু তারা নিজেদের ধরে রাখতে চায় না।
তারা কেবল মনে করিয়ে দেয়—
সবকিছু ধরা যায় না,
কিছু জিনিস কেবল অনুভব করা যায়।
চোখ তখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে,
কারণ চোখ সব সময় সত্য বহন করতে পারে না।
হৃদয় এগিয়ে আসে,
নামহীন সৌন্দর্যকে জায়গা দিতে।
আলো থেমে গেলে বোঝা যায়,
অন্ধকারও এক ধরনের ভাষা জানে।
সে চিৎকার করে না,
সে অপেক্ষা করতে শেখায়।
হঠাৎ বৃষ্টি থামে—
কোনো বিদায় নেই, কোনো পরিণতি নেই।
ভোর আসার আগে শহর একবার গভীর শ্বাস নেয়।
ছাদগুলো ফাঁকা, তবু শূন্য নয়।
কারণ সেখানে থেকে গেছে একটি না–বলা অনুভূতি,
যা সারাজীবন মনে থাকে,
কিন্তু কখনো সম্পূর্ণ বলা যায় না।
#কবিতা #বাংলাকবিতা #আধুনিকসাহিত্য #বৃষ্টি #রাত #নিঃশব্দ #অনুভূতি #শহরেরকবিতা #অদৃশ্যদৃশ্য
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।