সভ্যতার বাইরে
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্য কবিতা। ২৬ আগষ্ট, ২০২৬
কখনো কখনো ইচ্ছে করে নিজের নামটা কোথাও রেখে আসি,
যে নামে আমাকে ডেকেছে পৃথিবী সেই নামেরও আগে ফিরে যাই।
যেখানে সকাল মানে শুধু আলো,
রাত মানে শরীরের পাশে শরীর,
আর ক্ষুধা কোনো লজ্জার শব্দ নয়।
একটা অচেনা মাঠের কিনারে বসে থাকি চুপচাপ।
দূরে শুকনো ঘাস নড়ে, মনে হয়, এই শব্দটা
আমার জন্মেরও আগে শুনেছিলাম।
সেখানে কেউ জানতে চায় না
কতটা সফল হয়েছিলাম,
কতজন আমাকে ছেড়ে গেছে,
কোন ভুলের জন্য আজও নিজেকে ক্ষমা করতে পারিনি।
মাটি শুধু মাটি হয়ে থাকে,
বৃষ্টি কোনো স্মৃতি জাগায় না,
পাথর কোনো দর্শন বোঝে না।
আমি তখন আমার সমস্ত শিক্ষিত মুখ খুলে রাখি,
প্রেমের সংজ্ঞা,
ঈশ্বরের কাছে করা প্রশ্ন,
ভবিষ্যৎ নিয়ে সাজানো হিসাব।
একসময় দেখি,
সব কাগজ বাতাসে উড়ে গেছে।
শুধু শরীরটা পড়ে আছে,
তার ভেতরে ধুকপুক করছে একটি খুব পুরোনো ভয়।
হয়তো সেই ভয়ই প্রথম মানুষকে আগুনের কাছে বসিয়েছিল।
রাত আরও নামে।
মাঠের গন্ধ ঘন হয়ে আসে।
কোথাও কোনো শব্দ নেই,
শুধু মাটির নিচে অদৃশ্য কোনো প্রাণী
নড়েচড়ে ওঠে।
আমি তার দিকে তাকাই না।
শুধু নিঃশ্বাস নিই।
আর বুঝতে পারি,
মানুষ হওয়ার এত আয়োজনের পরও আমার ভেতরে কোথাও একটি প্রাণী এখনও জেগে আছে,
যে শুধু পৃথিবীর গন্ধ পেলে চুপ করে যায়।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।