জানালার স্ক্রু
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্য কবিতা। ২৯ অক্টোবর ২০২৬
পাশের বাড়ির নীল শাড়িটা তিন দিন ধরে শুকোচ্ছে একই দড়িতে,
বিকেলের রোদ সরে গেলে তার রংটা আর বোঝা যায় না।
আমার জানালার গ্রিলে শ্যাওলা, আঙুল বোলালে সবুজ গুঁড়ো ওঠে।
কাচের এক কোণে মরা মাছির দাগ,
মুছতে গিয়ে থেমে যাই— কাপড়টা কোথায় রেখেছি, মনে পড়ে না।
টেবিলের ওপর দুটো কাপ,
একটায় চায়ের শুকনো বাদামি বৃত্ত।
অন্যটায় একটা মরা পিঁপড়ে।
কালও ফেলিনি, আজও না; কী আশ্চর্য, ছোট জিনিসগুলো কত সহজে থেকে যায়।
গত মঙ্গলবার ফোন এসেছিল।
নামটা দেখে উল্টে রেখেছিলাম যন্ত্রটা।
রাত বারোটায় আবার হাতে নিয়ে দেখি, একটা বার্তা— ‘ওষুধটা খেয়েছ?’
উত্তর লিখেছিলাম, ‘হ্যাঁ।’ পাঠানো হয়নি।
ওষুধের পাতাটা তখনও বালিশের নিচে পড়ে ছিল।
জানালার নিচে বুনো গাছটা কোন ফাঁক দিয়ে যে মাথা তুলেছে! কেউ লাগায়নি,
জলও দেয়নি কেউ।
বৃষ্টির রাতে তার পাতায় জল জমে,
সকালে দু-এক ফোঁটা গড়িয়ে পড়ে আমার টেবিলের পুরোনো খাতায়।
কাল দেখলাম, গাছটার শিকড়ে জানালার একটা স্ক্রু ঢিলে।
হাতুড়ি আনতে গিয়েও আনিনি।
শুধু পর্দাটা একটু সরিয়ে দিলাম, যাতে পাতাগুলো ভেতর থেকে দেখা যায়।
আজ দুপুরে একটা পাতা ছিঁড়ে খাতার ভাঁজে রেখে দিয়েছি।
যে পাতায় একসময় তার নাম লিখেছিলাম, সেই পাতাটা নয়— তার আগের পাতায়,
যেখানে অনেক দিন কিছু লেখা হয়নি।
বিকেলে পাশের বাড়ির নীল শাড়িটা দড়ি থেকে নামিয়ে নেওয়া হলো।
জানালার ওপারে একজন মহিলা শাড়িটা ভাঁজ করে আলমারিতে রাখলেন।
তারপর জানালাটা বন্ধ করলেন।
আমার জানালাটা খোলা রইল।
রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে স্ক্রুটার দিকে আরেকবার তাকালাম।
গাছটা একটু বেড়েছে, নাকি জানালাটাই একটু নেমে এসেছে— ঠিক বুঝতে পারলাম না।
সকালে উঠে দেখব ভেবেছিলাম।
কিন্তু সকালে দেখি, জানালার কাঠে নতুন একটা আঁচড়। তার নিচে সবুজ পাতার ছাপ।
আমি অনেকক্ষণ নখ দিয়ে ঘষলাম।
দাগটা উঠল না।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।