যেখানে নদী থেমে যায়
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্যকবিত। ০৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
যখন মনে হয় সব শেষ, তখনো একফোঁটা জল বেয়ে যায় পাথরের গায়ে
যেন বলতে চায়—মানুষ শুধু ধুলো নয়,
একটু বাতাসও থাকে।
আমি সেই বাতাসকে খুঁজি নদীর কিনারে,
যেখানে কুয়াশা হাঁটু পর্যন্ত ডুবে থাকে,
আর পুরোনো ঘাটের সিঁড়িতে কারো পায়ের ছাপ এখনো শুকোয়নি।
কখনো রাতের ট্রেন পার হয়ে যায়,
আলোর ঝিকমিক এক ঝলক
তারপর আবার অন্ধকার ফিরে আসে—যেন কেউ দরজা বন্ধ করে দিল।
তবু আমি শুনি, কোথাও একটা বাঁশি বাজে,
খুব দূরের গ্রামের মতো,
যে গ্রামে আমি কখনো যাইনি,
কিন্তু যার নাম মনে পড়লে বুকটা কেঁপে ওঠে।
আমার হাতে একটা ভাঙা কাঁচের টুকরো,
তার মধ্যে দেখি তোমার মুখ—অসম্পূর্ণ, তবু চেনা।
আমি চাইলে ফেলে দিতে পারি, কিন্তু ফেলি না;
কারণ ব্যথাটুকুও যেন এখনো একটা সম্পর্ক।
একটা শিশু হেঁটে আসে,
হাতে ছেঁড়া বেলুন।
সে হাসে, যেন জানে না কিছুই হারায়নি।
আমি তার দিকে তাকিয়ে থাকি—
এই হাসিটুকুই বোধ হয় জীবনের শেষ সত্য।
রাত বাড়ে। নদী চুপ করে শোনে আমার নিঃশ্বাস।
আমি বলি, “যদি কখনো ফিরে আসিস, শুধু একবার হাতছানি দিস।”
নদী কিছু বলে না,
শুধু একটা ঢেউ এসে পায়ে ঠেকে,
যেন বলে—যা গেছে তা গেছে,
তবু জল বয়েই চলে।
আমি ফিরে আসি শহরে,
যেখানে আলো জ্বলে কিন্তু কেউ জেগে নেই।
পকেটে সেই কাঁচের টুকরোটা এখনো আছে।
একদিন হয়তো ছুঁড়ে ফেলব দূরে,
কিন্তু আজ রাতে এটাই আমার একমাত্র তারা।
#যেখানে_নদী_থেমে_যায় #ভাঙা_সম্পর্কের_কাঁচ
#রাতের_বাঁশি #হারানোর_পরেও #মানুষ_আর_ধুলো #বাংলার_কবিতা
#অনুভূতির_ঢেউ
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।