যে ঘরে কেউ নেই
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্য কবিতা। ২৬ আগষ্ট, ২০২৬
গতকাল রাতেও তোমার জন্য এক কাপ চা বানিয়েছিলাম।
অভ্যাসের ভুলে দুটো কাপই টেবিলে রেখেছিলাম,
তারপর অনেকক্ষণ দুটোর মাঝখানে তাকিয়ে ছিলাম।
জানালার বাইরে তখন বৃষ্টি হচ্ছিল খুব আস্তে।
যে বৃষ্টিতে তোমার সঙ্গে কখনো কথা হয়নি,
তবু মনে হলো তুমি নিশ্চয়ই এই শব্দটা শুনছো।
তোমার ঘরটা এখন খালি।
চেয়ারে ধুলো জমে,
আলমারির ভেতর জামাগুলো তোমার শরীরের অপেক্ষায় এখনও ভাঁজ হয়ে আছে।
কেউ জানে না কোন জিনিসের মধ্যে মানুষ
সবচেয়ে বেশি থেকে যায়।
তোমার পুরোনো কলমটা খুললে কালি এখনও বেরোয়।
শুধু তোমার হাতটা নেই।
কখনো দরজার কাছে দাঁড়িয়ে মনে হয়,
এই বুঝি তুমি ডাকবে।
তারপর নিজের কাছেই লজ্জা লাগে।
মৃত মানুষ ফিরে আসে না,
এই কথাটা সবাই জানে।
আমিও জানি।
তবু রাতের শেষে ঘরটা একটু ফাঁকা হলে
আমি বাতি নিভিয়ে দিই না।
জানি, এই আলোয় তুমি আর কোনোদিন ফিরবে না।
তবু অন্ধকার নামলে
মনে হয়,
তোমার জিনিসগুলোর ওপর একসঙ্গে খুব বেশি রাত নেমে আসে।
তাই বাতিটা জ্বলে থাকে।
তোমার জন্য নয়,
আমার পক্ষে এখনও ঘরটাকে পুরো অন্ধকার করে দেওয়া সম্ভব হয়নি।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।