নগরের নিঃশব্দ প্রহরী
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্যকবিতা | ফেব্রুয়ারি ০২,২০২৬
বুকের মধ্যে জমে রাখে শহর তার দিনের ধূলো।
যে আয়না ভেঙেছে তর্কে, তবু সে তাকায় তার ভাঙা মুখে।
ক্যালেন্ডারে কেটে রেখেছে অনুপস্থিতির তারিখ,
প্রতিটি দিন যেন ছোট্ট স্মৃতির চিহ্ন,
যা কারো চোখে পড়ে না, তবু সে রাখে।
চোখের ভেতর গড়ে ওঠে ছোট ছোট দুর্গ,
দূরত্বে ভেসে আসে নিঃশব্দ সঙ্কেত।
নগরের প্রহরী—হাতের তালুর মতো স্থির,
হাতের স্থিরতার চাবি নিয়ে দাঁড়িয়ে।
সে নিজেই বন্দি, তবু পাহারা দেয় সবার দ্বার।
প্রহরী বোঝে না, চিঠির ভাষা বদলে গেছে।
তবু সে পড়ে পুরনো লিপি, বারবার।
প্রতিটি শব্দে ছাপ পড়ে তার নিঃশব্দ মনে,
যেন সময়ও থেমে দাঁড়ায়, কাগজে জমে থাকে
হাজার সংশোধনের ছাপ।
নগরের বাতাসে ভেসে আসে অজানা শব্দের ঢেউ।
প্রতিটি নিশ্বাসে বাঁধা থাকে গল্প,
কেউ শুনতে পায় না, তবু সে শোনে।
প্রহরীর চোখে জমে থাকা নীরবতা—
নগরের নীরব প্রহরী জানে না,
কতটা লিখলে ভাঙবে এই দেয়াল।
প্রতিটি দিন একটি ছোট যুদ্ধে পরিণত হয়,
যেখানে কেবল সে দাঁড়ায়,
কেউ পাশে থাকে না।
তবু সে লিপির আঙুলে ভর করে
প্রতিটি মুহূর্তকে আটকায়।
প্রতিটি শব্দের নীরব প্রতিধ্বনি,
প্রতিটি ছাপের আভাস—
শহরের নিঃশব্দ হৃদয়, তার একলা প্রহরী।
নীল আকাশে কখনো সূর্যের আলো খোঁজে,
কিন্তু প্রহরী জানে—
ভাঙা আয়নার ভিতরেই সত্য।
কীভাবে দাঁড়াবে, কীভাবে রাখবে শান্তি,
প্রতিটি মুহূর্তে সে নিজেকে জিজ্ঞেস করে।
যখন রাত আসে, শহর নিঃশব্দ হয়,
তখনও প্রহরী দাঁড়ায়,
তার হাতের চাবি ধরা, চোখে অন্ধকার।
যে দিন কেটে গেছে, তার ছায়া তার সাথে।
যে রাত বাকি, তার নিঃশব্দ চাবি নিয়ে সে অপেক্ষা করে।
প্রহরী বোঝে না, কত শব্দ লুকিয়ে আছে শহরে,
কত চিঠি পড়া হয়নি, কত চাওয়া অজানা।
তবু সে থাকে, নিঃশব্দ,
নগরের বুকের মধ্যে এক চিরস্থায়ী প্রহরী।
#নগরের_প্রহরী #বাংলা_কবিতা #নীরবতা #শহরের_গল্প #BanglaPoetry #UrbanSilence
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।