অবশিষ্ট নীরবতার তত্ত্ব
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্যকবিতা | জানুয়ারি ২৪, ২০২৬
চোখ দুটো আর দৃশ্যের ভোক্তা নয়,
তারা কেবল বহন করে—অর্থহীন আলো,
অতিরিক্ত সময়ের ভার।
এখানে সময় প্রবাহ নয়,
সে স্তরে স্তরে জমে ওঠা পদার্থ,
যার ভেতরে আটকে থাকে প্রশ্নের খোলস,
একটিমাত্র শূন্যে প্রতিধ্বনিত।
আমি যে সত্যের দিকে এগোই,
সে নিজেই ক্ষয়প্রাপ্ত,অর্থের অতিরিক্ত ব্যবহারে,
স্বপ্নের ভাঙা প্রান্তর ছাড়িয়ে।
এই বিশ্ব কি কোনো অসমাপ্ত গণনা,
নাকি নিখুঁতভাবে ব্যর্থ সমীকরণ?
জানার আগেই আমাদের অস্তিত্ব কার্যকর হয়ে যায়,
শূন্যের মধ্যে স্থির হয়ে।
শব্দ ক্রমশ বিশ্বাস হারায়,প্রতিটি উচ্চারণ কিছু না কিছু লুকিয়ে রাখে।
নীর্বতাই ধীরে ধীরে শেষ ভাষা হয়ে ওঠে—
একটি নিঃশব্দ আকারে।
কবিতা তখন আর বক্তব্য নয়,
একটি ঘটনা, যা ঘটে, অথচ ব্যাখ্যা চায় না।
ঈশ্বর এখানে নামহীন, তাঁর অনুপস্থিতি একটি শূন্য ভারসাম্য।
অনুপস্থিতির মধ্যেই একটি কঠিন শৃঙ্খলা কাজ করে,
যেন কোনো অদৃশ্য সূত্র সমস্ত অস্তিত্বকে বাঁধে রাখে।
জন্ম ও মৃত্যু—দুটি অসম্পূর্ণ বাক্য,
মাঝখানে আমরা, অস্থায়ী অর্থ বহনকারী মাত্র।
আমি লিখি সমাধানের জন্য নয়,
লিখি ভার সঠিক জায়গায় রাখতে।
লেখার মধ্যেই নীরব আলো জ্বলে,
প্রতি নিঃশ্বাসে অদৃশ্য কণার নাচ।
যদি সামান্য শান্তি জন্মায়—তা কোনো উত্তর নয়,
একটি বিরতি,
যা দমবন্ধ করা নিঃশ্বাসের মতো, শূন্যে ভাসমান।
আর সেই বিরতিতেই এই জগৎ একটুখানি সহনীয় হয়ে ওঠে অপরিসীম মহাশূন্যের মধ্যে,
যেখানে শব্দ নেই, কেবল অনুভূতির চাপ।
নীর্বচেতনতার এই স্থিরতায় আমি দাঁড়িয়ে থাকি,
শুধু লেখার কারণে, শুধু বোঝার জন্য যে,
শান্তি আসে না, শুধু ধরে রাখা যায়।
#হাইলিটারারিকবিতা #বাংলাসাহিত্য
#দার্শনিককবিতা #অস্তিত্ববাদ #নীরবতারতত্ত্ব
#BanglaPoetry #LiteraryWriting
#মনন #কবিতারপাঠ #অব্যক্ত
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।