খাতার পৃষ্ঠায় লেগে থাকা কালি
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্য কবিতা। মে ০৪, ২০২৬
আলমারির নিচের তাকে পড়ে ছিল খাতাটা—
মলাটের কোণ ভাঙা,
মাঝখানে শুকনো চায়ের দাগ,
পাতা উল্টালে হালকা একধরনের পুরোনো কালি-গন্ধ।
ওখানেই আটকে ছিল কিছু বাক্য,
অর্ধেক লেখা, অর্ধেক কাটা—
কিছু শব্দের পাশে আঙুলের দাগ,
যেন কেউ লিখতে লিখতে থেমে গেছে হঠাৎ।
আমি ওগুলো চিনতে পারি।
ওগুলো একসময় আমার ছিল—
রাতে বাতি নিভে গেলে
এই খাতাটাই টেবিলে খোলা থাকত।
কিন্তু ওরা আমাকে সহজে নেয় না এখন,
একটা লাইনের নিচে দাগ টেনে রেখেছে কেউ—
“এখান থেকে শুরু হয়েছিল”—
তারপর ফাঁকা।
কোন দিনটার কথা ছিল, মনে পড়ে না।
শুধু মনে পড়ে,
এক বিকেলে জানালার ফাঁক দিয়ে চাঁদের আলো ঢুকছিল,
আর আমি ভেবেছিলাম—
এই আলোটাকে কি শব্দে ধরা যায়?
সেই চেষ্টার দাগ এখনো আছে—
একটা বাক্য শুরু, শেষ হয়নি,
আরেকটা শব্দের ওপর তিনবার কাটাকাটি,
শেষে শুধু একটা বিন্দু।
আজ যখন আবার পড়ি,
মনে হয় ওগুলো ফিরতে চায় না,
বরং তাকিয়ে থাকে—
যেন জিজ্ঞেস করছে,
“শেষ করেছিলে কোথায়?”
আমি উত্তর দিই না।
পাতা উল্টাই।
কোথাও একটা জায়গায়
হাতের লেখা হঠাৎ পরিষ্কার হয়ে গেছে—
লাইনগুলো সোজা, শব্দগুলো স্থির,
কিন্তু আশ্চর্যভাবে, ওখানেই কিছু নেই।
শুধু ফাঁকা জায়গা।
এতটা ফাঁকা যে,
দেখলেই মনে হয়—
এখানেই আসলে কিছু শুরু হওয়ার কথা ছিল।
#কবিতা #বাংলা_কবিতা #সাহিত্য #লেখালেখি #সৃজন #নতুন_কবিতা #অন্তর্গত_অনুভূতি
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।