রক্ত ও আলো
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্যকবিতা | ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২৬
কালির বোতল খোলা, কলম নিঃশব্দ,
দিগন্তে বসন্তকে ডেকে রেখেছি,
সে আসে না, তবু আমার প্রত্যাশা নেই শেষ।
রক্তের ভেতরে শান্তি খেলতে খেলতে ক্লান্ত হলে
বৃষ্টি নিজেই সংকেত পাঠায়,
শ্রাবণ তখন কান্নার অনুমতি দেয়—
দুঃখ নয়, অদ্ভুত এক সুখের মাঝখানে।
মেঘের আড়ম্বরে বিশ্বাস হারিয়ে যায়,
ভালোবাসা কখনো বিষের মতো শিখায়,
কখনো অমৃতের মতো—
দুটোর স্বাদ রয়ে যায় জিহ্বায়,
অভিমানী, তীক্ষ্ণ, তবু মিষ্টি।
মানুষ মানুষই শুধু—
শান্তি খোঁজে, পায় না।
দেবতারা আকাশে—
নিঃশব্দ, দূর, প্রতীক্ষার ছায়া।
নিভৃতে দেখা হলে জেনে নিও,
সব শান্তি সুস্থ নয়।
কিছু ভালোবাসা কেবল অভিনয়,
নিজেকেই ভুল বোঝানোর কৌশল।
একাকীত্বে চিনে নিও—
আমরা পরস্পরের রক্তে দাঁড়াই না,
বরং মহাকাশ হয়ে প্রসারিত হই,
নিজেদের মধ্যেই নিঃশেষ হই।
সময় বলে— কিছু নেই,
শুধু থাকা বা না থাকা।
বিজ্ঞান বলে— আলো আসে মৃত তারার কাছ থেকে।
কবি জানে— সেই আলোতেই চোখে জ্বলে ওঠে ভালোবাসা।
বৃষ্টির শব্দে স্মৃতি ভাসে,
কোনো নামহীন চোখে—
যা দেখা যায় না, তবু অনুভূত হয়।
প্রত্যেক ফোঁটা মনে করায় স্নিগ্ধতা আর ব্যথার অদ্ভুত মিল।
শ্রাবণের রঙিন অন্ধকারে বাসুকীর ঠোঁট ভেসে আসে স্মৃতির মতো,
যেখানে অমৃত এবং বিষ একসাথে বাস করে।
নরম শরীর, তীক্ষ্ণ স্পর্শ—
সবই আসে, যায়, কিন্তু মুছে যায় না।
আমি দিগন্তে অন্ধকার ঠেকিয়ে রেখেছি,
ছাদগুলো ফাঁকা, তবু পূর্ণ।
যদি কখনো আসো—চিনে নিও এই অপেক্ষা,
চিনে নিও অনুভূতির প্রকৃত স্বাদ।
রক্তিম চোখ ভিজে ওঠে,
অভিমানী আলো জ্বলে ওঠে,
ভালোবাসা শুধু অনুভব—শব্দে নয়,
সময়ের মধ্যেই।
রাত্রি দীর্ঘ,
তবু শেষ নয়।
বসন্ত অপেক্ষা করে,
শ্রাবণ কান্না করে,
আমরা শুধু মানুষ,
মেঘের মধ্যে রক্ত ও আলো মিলিয়ে।
#কবিতা #আধুনিককবিতা #ভালোবাসা #অপেক্ষা #রক্তওআলো #শ্রাবণ #বৃষ্টি #বাংলাসাহিত্য #নিঃশব্দ #অনুভূতি
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।