দূরের আলো
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্য কবিতা। ২৫ জুন, ২০২৬
রাত হলে এখনো বারান্দার দরজাটা পুরো আটকাই না।
কেন আটকাই না, তার কোনো জবাব নেই।
হয়তো অভ্যাস।
অথবা এমন কিছু, যার নাম ভুলে গেছি।
টেবিলের ড্রয়ারে কিছু পুরোনো কাগজ পড়ে আছে।
রেলের টিকিট, ২০১৮ সালের।
ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন, তারিখ ঘষা।
অনেকদিন খোলা হয়নি।
তবু মাঝে মাঝে আঙুল গিয়ে থেমে যায় ওখানে।
কাগজের ভাঁজে কী লেখা আছে জানি না।
শুধু জানি, কিছু সময় কালিতে থাকে না।
থেকে যায় আঙুলের ডগায়,
একটা অস্পষ্ট উষ্ণতার মতো।
এই শহরটাও আস্তে আস্তে বদলে গেছে।
মোড়ের চায়ের দোকান,
যেখানে সন্ধ্যা নামত কাপের টুংটাং শব্দে,
সেখানে এখন মাগরিবের পরপরই শাটার নামে।
রাস্তার পাশের কৃষ্ণচূড়াগুলোও কেমন চুপ।
আগের মতো ভেজা মাটির গন্ধ নিয়ে বৃষ্টি আসে না আর।
ঘরের কোণে পড়ে থাকা সিরামিকের কাপটা এখনো আছে।
নীল রঙের, কানাটা একটু চটা।
এখন আর কেউ ওতে চা ঢালে না।
তবু সরাইনি।
কিছু জিনিস ফেলে দেওয়া যায় না,
যদিও তাদের কোনো কাজ নেই।
তাদের গায়ে লেগে থাকে কারো না-বলা একটা কথা।
গতকাল রাতেও ঘুম আসেনি।
জানালার গ্রিল ধরে বসে ছিলাম।
দূরে একটা পাঁচতলা বাড়ির তিনতলায় আলো জ্বলছিল। টেবিলল্যাম্পের।
অনেকক্ষণ তাকিয়ে ছিলাম সেই আলোটার দিকে।
মনে হচ্ছিল, পৃথিবীতে এত ঘর, এত জানালা, এত আলো,
তবু কিছু অন্ধকার নিজের জায়গা ছাড়ে না।
চেয়ারে বসে থাকে, চুপচাপ।
ভোর হওয়ার আগে জানালাটা বন্ধ করে দিয়েছিলাম।
কিন্তু আলোটা অনেকক্ষণ পরেও ঘরের ভেতর রয়ে গিয়েছিল।
চোখ বুজলেই দেখতে পাচ্ছিলাম।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।