নিঃশেষ আগুন
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্যকবিতা | জানুয়ারি ২৬, ২০২৬
চতুর্দিকে কাগজ পুড়ে যাচ্ছে— ধোঁয়া ঘন,
শব্দ নেই, শুধু আগুনের নিঃশ্বাস।
আমরা চেয়েছিলাম ঐক্যের ঘনিষ্ঠতা,
কিন্তু ঘনত্ব মিলেছে ধোঁয়ায়।
ছোট্ট মাঠ, যেখানে শৈশব দৌড়াত,
সেই পথ এখন অদৃশ্য।
কাঠের সেতু, গঞ্জের মাঠ,
সব ম্লান, সব ঝাপসা,
গগনচুম্বি শহরের লোভাতুর নাগরিক
ক্ষুধার আগুনে চোখ বন্ধ করে হাঁটে।
কাগজে লেখা আছে:
নিরীহ মেয়ের নিঃশ্বাস,
লেখকের অদৃশ্য পান্ডুলিপি,
ক্ষুধার ক্রোধ,
সব মিলেমিশে আগুনের শিখায় ঝলসে গেছে।
সেই রাত—অন্তর্দাহী,
বিস্মৃত, বিষাক্ত।
শ্বাসে কেবল ধোঁয়া,
প্রতিটি পাতা মৃত্যুর ওজন বহন করে।
অসীম অন্ধকারের ভেতরে
নিষ্ঠুর হিসাব নেয় আগুন।
আমরা কেউ বিশ্বাস করি না,
নিরীহের দিকে তাকাতে পারি না।
লাশ—মেয়ের, লেখকের, ক্ষুধার—
সব মিলেমিশে অদৃশ্য হয়ে যায়।
সব জ্বলছে চুপচাপ,
মফস্বলের মরদেহ জ্বলে যাচ্ছে,
ধোঁয়া ঢেকে রেখেছে ঘর, পথ, শহর।
স্মৃতি ঝাপসা, সমস্ত ইতিহাস আগুনে মিলেছে।
ক্ষুধার লালসা,
অবজ্ঞার চিৎকার,
সব মিলেমিশে এক অবিরাম দাহ।
আমরা শুধু দাঁড়িয়ে দেখি,
নিঃশব্দের ভারী নিঃশ্বাসে।
কেউ জেগে নেই, কেউ চিৎকার করে না।
শুধু আগুন জ্বলে,
ধোঁয়া ঘন, মানুষের অস্তিত্ব—
শুধু ছাই আর ধোঁয়ার মধ্যে হারিয়ে গেছে।
#নিহিলিস্টিককবিতা #ডার্কএক্সিস্টেনশিয়াল
#বাংলাকবিতা #অস্তিত্বহারা #নীরবঅগ্নি
#BanglaPoetry #ক্ষুধা #শ্মশান #দার্শনিককবিতা
#মানবতারঅন্ধকার
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।