নিস্পল্ক নিঃশব্দের দ্যুতি
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্যকবিতা | ফেব্রুয়ারি ০২,২০২৬
শব্দেরা নিঃশব্দে কত কথা বলে গেল,
পাতার ফিসফিস আর আমি শুনিনি।
ওরা ছুঁচের ভিতর দিয়ে একে একে পৌঁছে গেছে
অবলীলায় অকল্পনীয় কবিতার দেশে।
তোমার নিস্পল্ক চোখে আটকে গেছে আকাশ,
ঐখানে উড়ে বেড়ায় রঙিন প্রজাপতিরা।
পাখিরা সকাল-সন্ধ্যা খোঁজখবর নেয়,
আমার খুব হিংসা হয়—
সে খবর তুমি কি রাখো?
একবার হঠাৎ বৃষ্টি তোমায় ভিজিয়ে দিয়েছিল,
মাথার চুল থেকে নদী হয়ে মাটি ছুঁয়েছিল।
সারা শরীর জুড়ে ছিল তিন প্রহর শিহরণ,
মুখ জুড়ে ছিল বিজয়িনী হাসি।
রাত্রি এসে একে একে তোমায় ঘিরে ধরে,
অন্ধকারে মিশে যায় জোনাকির আলপনা।
সেই অবিস্মরণীয় মুহূর্তে
ভিক্ষুকের মতো হাত পেতে চাইতে থাকি।
“নাওগো, আমায় নাও, এবার তোমার করে নাও।”
তোমার নিঃশব্দ স্পর্শে জমে ওঠে সময়ের ছাপ,
পলকের সঙ্গে পলক মিলে গড়ে ওঠে আকাশ।
এখানেই কবিতা, শব্দ ছাড়া, নিঃশব্দে,
যেখানে আমার অভিসার,
তোমার নিশ্বাসের ছোঁয়ায় মিলিয়ে যায়।
বৃষ্টি থেমে গেছে, কিন্তু বুকে জলরাশি থাকে,
প্রতিটি বিন্দু ভাঙে হৃদয়ের দরজা।
রঙিন প্রজাপতি গোপন আকাশে উড়ে,
তার সঙ্গী হয়ে আসে ঝরো পাতা,
আর রাতের নীরবতা শুনে নেয় প্রতিটি হাহাকার।
আমি দেখেছি—তুমি আছো প্রতিটি নিঃশ্বাসে,
হাতের স্পর্শে জমে থাকা ছায়ায়।
প্রতিটি অল্প আলো, প্রতিটি ধূলিকণা
মিশে গেছে তোমার নামের সঙ্গে।
আমি চেয়ে থাকি সেই অচেনা আকাশে,
যেখানে শুধু তোমার চোখ এবং আমার নিঃশব্দ ভালোবাসা।
চাঁদের আলো এসে আঁচল জুড়ে,
প্রজাপতিরা আর পাখিরা মিশে যায় রাত্রির বুকে।
তুমি শিহরণে ভিজে আছো, আমি নিঃশব্দে হাসি।
একই আকাশের নিচে, একই নিশ্বাসে আমরা
গড়ে তুলি নীরবতার শহর,
যেখানে ভালোবাসা কথা নয়, অনুভূতি।
এই কবিতা—নিরব, দীর্ঘ,
তুমি এবং আমি, শুধু নিঃশব্দে।
রঙিন প্রজাপতি উড়ে যায়,
পাতা নড়ায়,
আমাদের গল্প বয়ে যায় সময়ের ঢেউয়ে।
এবং আমি শুধু থাকি—
তোমার নিস্পল্ক ভালোবাসার সাক্ষী।
#নিস্পল্ক_নিঃশব্দ #বাংলা_কবিতা #নিরব_ভালোবাসা #প্রজাপতি_আলপনা #BanglaPoetry #EmotionalBangla #শুধুই_তুমি_আমি
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।