স্থিরতার পরে
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্য কবিতা। ৫ আগষ্ট, ২০২৬
স্থিরতার পরে অনেকটা সময় কেটে গেছে।
কিছুদিন না, অনেকদিন।
মনে হয়, আমি কিছু একটা টেনে নিয়ে চলেছি।
কী বলব ওটাকে? দেহ? ছায়া?
দেখতে আমার মতোই, অথচ আমার না।
আমি কথা বলি, কাজ করি,
কখনো কখনো হাসিও।
কিন্তু ভেতরে একটা অংশ আছে,
যে চুপ করে বসে থাকে।
কিছুই বলে না।
অথচ ওর চুপ করে থাকাটাই সবচেয়ে বেশি শোনা যায়।
তুমি যখন নতুন শুরু, নতুন সকালের কথা বলো,
আমি মাথা নাড়ি। শুনি।
কিন্তু সবটা ভেতরে ঢোকে না।
মাঝখানে কিছু একটা আটকে আছে,
বুকের ভেতর শক্ত হয়ে থাকা কাচের মতো।
ওপাশে তোমার আলো,
এপাশে জমে থাকা ধুলো।
অনেকবার ভেবেছি, এই বোঝাটা নামিয়ে রাখি।
ভেতরের যে অংশটা থেমে গেছে, তাকে নিয়ে আর কতদূর?
কিন্তু নামাতে গেলেই টের পাই,
ওটা আমার গায়ের সঙ্গেই লেগে আছে।
কেউ জিজ্ঞেস করলে, কী হয়েছে?
আমি ঠিক বলতে পারি না।
কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটেনি,
কোনো নির্দিষ্ট দিনও নেই।
শুধু একসময় বুঝতে পেরেছি,
ভেতরের কিছু আর সাড়া দিচ্ছে না।
আগে লিখতাম।
অকারণে উত্তেজিত হতাম।
ছোট ছোট স্বপ্ন নিয়েও ব্যস্ত থাকতাম।
এখন সেই কাগজগুলো খুঁজে পাই না।
কোনো কথা এলে শুকনো লাগে।
রংগুলো আর আলাদা করে চোখে পড়ে না,
সব কেমন ফিকে।
তুমি বলেছিলে, বেঁচে থাকতে হলে লড়তে হয়।
আমি চেষ্টা করেছি। সত্যিই করেছি।
কিন্তু এই অংশটার ভেতর কোনো লড়াই নেই,
ও শুধু বসে থাকে। নড়ে না।
কখনো ভাবি, পুরোটা মাটির নিচে চাপা দিয়ে দিই,
যেন আর মনে না পড়ে।
কিন্তু মাটি কি সত্যিই সব ঢেকে রাখে?
যে কথাগুলো বলা হয়নি, জমে আছে ভেতরে,
সেগুলো কি থেমে যায়?
এখন আর টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি না।
ও-ও চুপ, আমিও চুপ।
মাঝখানে একটা ফাঁক পড়ে আছে,
দিক ঠিক করার ইচ্ছেটাও নেই।
তুমি যদি খুব ভালো করে তাকাও,
দেখবে, এই চোখে একসময় আলো ছিল।
বড় কিছু না,
একটা ছোট আগুনের মতো।
এখন শুধু ছাই পড়ে আছে,
ঠান্ডা, ধূসর ছাই।
আমি ক্লান্ত, স্বীকার করছি।
তবু পুরোটা ছেড়ে দিতেও পারি না।
এভাবেই আছি অর্ধেক জেগে, অর্ধেক থেমে।
একটা অংশ বাঁচে,
আরেকটা অংশ শুধু থেকে যায়।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।