অভাব যখন কলমে শব্দ হয়ে ওঠে
লেখকঃ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
ধরনঃ গদ্যকবিতা
তারিখঃ ২৯ অক্টোবর ২০২৫
কেমন জানি লিখে চলেছি—
জীবনের কথা, কিছু আলো, কিছু ব্যথা,
আর একটুখানি ভালোবাসা।
শব্দের ভেতর রেখে দিই সবকিছু,
তবু কখনও কখনও হঠাৎ মনে পড়ে—
আজ সারাদিন কিছু খাইনি।
অদ্ভুত না?
যে মানুষ সুখের গল্প লেখে,
তার কলমে জল নামে না,
কাঁদে শুধু ভিতরের নীরবতা।
আমি লিখি যেন ক্ষুধাকেও ভাষা দিতে পারি,
যেন শব্দই এক টুকরো ভাত হয়ে আসে—
যা অন্তত মনের ক্ষুধা মেটায়,
যদিও শরীরের নয়।
অভাব মানুষকে শুধু দরিদ্র করে না,
করে নীরব চিন্তাশীল।
সে শেখায়—যখন পকেট খালি,
তখনও কলম থাকে পাশে,
এক অদ্ভুত বন্ধুর মতো।
একসময় ভাবতাম অভাব মানে টাকা নেই।
এখন বুঝি—
অভাব আছে বোঝার,
অভাব আছে কোমলতার,
আর অভাব আছে একফোঁটা সহানুভূতির।
হয়তো তাই আমি লিখি এত সহজে,
এত আলো নিয়ে, ব্যথার ভেতর থেকেও।
আমার ছন্দ আসে কষ্ট থেকে,
ভাষা জন্ম নেয় ক্ষুধা থেকে,
আর নীরবতা হয় প্রার্থনার মতো গভীর।
যখন কেউ বলে, “তুমি কত সুন্দর লিখো,”
আমি শুধু মৃদু হেসে ফেলি।
তাদের বলি না—
এই সৌন্দর্যের নিচে লুকিয়ে আছে
এক অসমাপ্ত ক্ষুধা,
এক অনুচ্চারিত যন্ত্রণা।
হয়তো এই-ই লেখার সবচেয়ে মানবিক রূপ—
যেখানে অভাবও কবিতা হয়ে ওঠে,
আর বেঁচে থাকা মানে হয়
কলমে নিজের অস্তিত্ব লিখে যাওয়া।
#জীবনেরলেখা #অভাবেরভেতরশিল্প #মানুষওকষ্ট #হৃদয়েরপ্রতিধ্বনি #গদ্যকবিতা #enolej_idea
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।