খেলার মাঠ, ভোটের দেশ
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্য কবিতা । ০১ জুন , ২০২৬
শিশুরা যেভাবে খেলে—হাত ধরাধরি করে,
দৌড়ে গিয়ে আবার ফিরে আসে,
ধুলো মেখে পড়ে যায়,
আবার উঠে দাঁড়ায়,
তেমনি করেই মানুষ একদিন গণতন্ত্র শিখেছিল।
বিকেলের পড়ন্ত আলোয় যখন ছায়া আসল
শরীরের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে,
গলির মুখে কিংবা বাড়ির সামনের ফাঁকা জায়গায়
তারা বানিয়ে নেয় নিজেদের পৃথিবী।
সেখানে হার মানে শেষ নয়,
আবার খেলা শুরু হয় নতুন দমে, নতুন শ্বাসে।
যে হেরে যায়, সে-ও জানে—
পরের রাউন্ড বলে কিছু আছে।
বন্ধুর হাত ছেড়ে দিলে খেলা জমে না।
কিন্তু আমরা বড় হতে হতে খেলার সহজ
নিয়মগুলো ভুলে গেছি।
জিততেই হবে—এই ভয়ংকর তাড়নায়
আমরা হাত চেপে ধরেছি এত শক্ত করে
যে সাথিরাই বিরক্ত হয়ে সরে গেছে।
আমরা বুঝেছি— চিৎকার যত বেড়েছে,
লক্ষ্য তত ঝাপসা হয়েছে।
রাগের গতি দৌড়ের গতিকে ছাড়িয়ে গেলে
দল ভেঙে যায়।
ক্যাপ্টেন হওয়া মানে সবার আগে দৌড়ানো নয়,
বরং ক্লান্ত মানুষটার শ্বাস শুনতে পারা।
আমাদের ত্রুটিগুলো যদি অভ্যাস হয়ে যায়,
তাহলে সেগুলো একদিন
শিকলের মতো শক্ত হয়ে দাঁড়ায়।
তখন আর সামনে এগোনো যায় না।
তাই আত্মবিশ্বাস দরকার—
যে আত্মবিশ্বাস গলার স্বর শুকিয়ে যেতে দেয় না,
ভুরু কাঁপতে দেয় না,
অকারণে ঘৃণা শেখায় না।
এই রাউন্ডেও আমরা হেরেছি।
রুমাল খসে পড়েছে বুক থেকে।
প্রতিপক্ষ আরাম পেয়েছে।
আমাদের পা কাঁপছে মাঠের ধুলোয়।
সন্ধ্যার আলোয় মুখগুলোও
চেনা যাচ্ছে না ঠিকঠাক।
তবু আমরা বসে পড়েছি পাশাপাশি।
হাঁপাচ্ছি।
কারও জামায় ঘামের দাগ,
কারও চোখে অপমানের জল।
তারপরও কেউ কাউকে ছেড়ে যায়নি।
কারণ আমরা জানি—
ভালো মানুষ হেরে যেতে পারে,
পরাস্ত হতে পারে,
এমনকি মরে যেতেও পারে।
তবু অসৎ হয়ে জেতার চেয়ে
সৎ থেকে হেরে যাওয়া অনেক বেশি শান্তির।
ম্যাজিকের বাক্সে লুকানো প্রতারণা
একদিন না একদিন ধরা পড়েই যায়।
কবুতর বের করার হাতসাফাই
চিরকাল মানুষকে বোকা বানাতে পারে না।
তাই যা নেই, তাকে আছে বলো না।
যা সত্য, তাকে আড়াল করো না।
ছলচাতুরি শেখিও না কাউকে।
রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে
নিজেকে শুধু এইটুকু জিজ্ঞেস করো—
আজ আমি মানুষের পাশে ছিলাম তো?
যদি উত্তর “হ্যাঁ” হয়,
তাহলে আগামীকাল
আজকের চেয়ে একটু বড় মানুষ হয়ে ওঠা
এখনো সম্ভব।
#বাংলাকবিতা #কবিতা #আধুনিককবিতা #মানুষ #ভোট #খেলারমাঠ #সততা #সমাজ #বাংলাসাহিত্য #জীবনেরকবিতা
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।