শিউলির নিঃশব্দ স্পন্দন
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্যকবিতা। ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬
শিউলি বিছানো পথটায় আজ ভোর একটু দেরিতে নামে।
আমি একা হাঁটি—
পায়ের নিচে চাপা পড়ে নরম সাদা পাপড়ি,
কমলা ডাঁটার ভাঙা গন্ধ উঠছে আঙুলে।
এই পথটা আমি চিনি।
তবু আজ অচেনা লাগে—
কারণ তুমি নেই,
আর তোমার অনুপস্থিতিরও একটা শব্দ আছে।
হাওয়া খুব আস্তে বইছে,
কিন্তু আমার ভেতরের বাতাস অস্থির।
ভোরের আকাশ পরিষ্কার,
আর আমার মনটা অদ্ভুতভাবে সন্ধ্যার রঙ মেখে বসে আছে।
ফুলগুলো পড়ে আছে ছড়িয়ে—
যেন কাল রাতের অর্ধেক কথা,
যেগুলো বলা হয়নি,
আসলে বলা যায়নি।
আমি একটা শিউলি কুড়িয়ে নেই।
হঠাৎ মনে হয়—
তোমার কণ্ঠস্বরটা ঠিক কেমন ছিল?
স্মৃতি কি গন্ধে টিকে থাকে,
নাকি শুধু অভ্যাসে?
শিশির ভেজা ঘাস পায়ে লেগে ঠান্ডা হয়ে যায়,
কিন্তু বুকের ভেতরটা উল্টো গরম।
ভালোবাসা কি এমনই?
বাইরে নরম, ভেতরে জ্বালা?
পাতার ফাঁক দিয়ে আলো ঢুকে পড়ে চোখে।
আমি তাকাই না।
কারণ আলো কখনও কখনও
সত্যিটাকে খুব স্পষ্ট করে দেয়।
পথের ধারে বসে থাকে এক অদৃশ্য অস্থিরতা—
ওটা কি আমারই ছায়া?
নাকি ঝরে পড়া ফুলেদের দুঃখ?
শিউলি কখনও চিৎকার করে না।
তারা ঝরে পড়ে নিঃশব্দে।
ভালোবাসাও হয়তো তেমন—
একদিন হঠাৎ দেখি,
মাটিতে বিছিয়ে আছে,
আর আমরা বুঝতেই পারিনি
কখন গাছটা ফাঁকা হয়ে গেছে।
আমি হাঁটি।
ফুল, বাতাস, ভোর—সব একই থাকে।
শুধু মানুষ বদলে যায়।
নীরবতা আজ কথা বলে না—
বরং শোনে।
আমার পায়ের শব্দ,
হৃদয়ের অনিয়মিত স্পন্দন,
আর সেই অদৃশ্য নাম—
যা আমি উচ্চারণ করি না।
শিউলির আভা ধীরে বলে—
ভালোবাসা শেষ হয় না,
সে শুধু রূপ বদলায়।
কখনও গাছ,
কখনও ঝরা ফুল,
কখনও ভোরের গন্ধ,
কখনও নিঃশব্দ স্পন্দন।
আমি থামি।
এক মুহূর্তের জন্য মনে হয়—
ভালোবাসা আসলে হারায় না,
আমরাই তার ঋতু বদলাই।
পথটা ফুরোয় না।
ভোরও না।
শুধু মানুষ একদিন শিখে যায়—
ঝরে পড়া জিনিসকেও
শ্রদ্ধা করতে হয়।
আর শিউলি?
সে নিঃশব্দেই জানিয়ে যায়—
যা সত্যি,
তা কখনও শব্দে নয়,
স্পন্দনে বেঁচে থাকে।
#শিউলিরনিঃশব্দস্পন্দন #মোহাম্মদজাহিদহোসেন
#আধুনিকবাংলাকবিতা #নীরবতারভাষা
#ভালোবাসাররূপান্তর
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।