বৃষ্টির কাছে ঋণ
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্য কবিতা। ২৫ জুন, ২০২৬
আজ অনেকদিন পর বৃষ্টি নামল।
জানালার শিক ধরে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম।
উঠোনের ফাটা মাটি ধীরে ধীরে রঙ বদলাচ্ছে। ধুলো থেকে কাদা।
টিনের চালে ঝমঝম শব্দ হচ্ছিল।
আর ঘরের ভেতর জমে থাকা নীরবতাগুলো কেমন নরম হয়ে আসছিল। যেন পুরোনো তোয়ালে ভিজলে যেমন হয়।
মানুষের ভেতর কথা জমে।
বেশিরভাগই বলা হয় না।
শুধু কোনো এক বৃষ্টির দিনে মনে হয়, সেগুলো একটু নামিয়ে রাখা যায়। মেঝেতে।
কেউ দেখবে না।
বারান্দায় বেতের সেই চেয়ারটা এখনো আছে।
একটা পায়া একটু নড়বড়ে।
একসময় ওখানে বসে সন্ধ্যা পার হতো।
চা, বিস্কুট, আর অফুরান গল্প।
এখন সেখানে শুধু বৃষ্টির ছিটে পড়ে।
কিছুক্ষণ পর শুকিয়ে যায়।
দাগ থেকে যায় কয়েকটা।
আজ বৃষ্টির কাছে কিছু চাইনি।
প্রার্থনা না।
অভিযোগও না।
শুধু চেয়েছিলাম,
বৃষ্টিটা যেন আজ তাড়াতাড়ি না থামে।
কারণ কিছু ভেজা মুহূর্ত চলে গেলে আর ফেরে না।
তাদের তুলে রাখা যায় না অ্যালবামের পাতায়।
তবু প্রথম ফোঁটা যখন শুকনো মাটিতে পড়ে,
টুপ করে শব্দ হয়,
তখন মনে হয়, যতই খরায় পুড়ুক সব,
কোথাও একটু ভিজে থাকার জায়গা বেঁচে থাকে।
বুকের ভেতর।
খাতার ভাঁজে।
হয়তো সেটাই ঋণ।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।