বৃষ্টিভেজা এক বিকেল
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্য কবিতা । ২০ জুন,২০২৬
কী একটা কারণে সেদিন কলেজ ছুটি হয়ে গিয়েছিল।
আমি আকাশ, আর আমার বন্ধু সৃজন, বৃষ্টি, পলাশ আর মেঘ ঠিক করলাম সিনেমা দেখতে যাব।
সিনেমা হলে একটা দারুণ সিনেমা এসেছে,
সবাই মিলে দেখব।
খরচের বেশিরভাগটাই দেবে সৃজন।
এ ব্যাপারে ও বরাবরই দিলদার।
এমনটা ও পারে, আমরা বাকিরা ঠিক ততটা নই।
এই নিয়ে পলাশের আপত্তির শেষ নেই।
কেন ও সব টাকা দেবে?
নিজেদের খরচ নিজেদেরই করা উচিত।
ওর ঘাড়ে সব চাপাব কেন?
আমি হেসে বললাম,
থাক না।
তুই না হয় অন্য কোনোদিন খরচ করিস।
বাস ছুটে চলেছিল।
রমনার বিস্তীর্ণ মাঠ পিছনে সরে যাচ্ছিল ছবির মতো। জানলার বাইরে সবুজের ওপর হালকা রোদ পড়েছিল, অথচ বৃষ্টির মুখ দেখে মনে হচ্ছিল অন্য কিছু।
আমি বললাম,
কিরে বৃষ্টি, তোর কি মন খারাপ?
বৃষ্টি জানলার বাইরে তাকিয়েই বলল,
ঠিক ধরেছিস।
বাবার শরীর খুব খারাপ।
বেরোনোর আগে দেখে এলাম।
কী জানি, বাড়ি ফিরে কী খবর শুনব।
মেঘ সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল,
কিরে, তুই সুযোগ পেলেই আকাশের সঙ্গে এত গুজগুজ ফুসফুস করিস কেন?
আমি কি তোর বন্ধু না?
বৃষ্টি এবার হেসে ফেলল।
ও আমার বাবার খবর নিচ্ছিল।
তোর কি হিংসে হচ্ছে?
মেঘ কিছু বলার আগেই সৃজন গম্ভীর গলায় বলে উঠল,
তোরা এবার থামবি? ফার্মগেট এসে গেছে।
আমরা বাস থেকে নামতেই আকাশ ফেটে বৃষ্টি নামল।
মুহূর্তের মধ্যে ঝমঝমিয়ে জল নেমে এল চারদিকে। কারও কাছে ছাতা ছিল না।
প্রথমে একটু দৌড়ঝাঁপ করলেও পরে বুঝলাম,
লাভ নেই।
অগত্যা আমরা বৃষ্টির কাছেই আত্মসমর্পণ করলাম।
সবচেয়ে চুপচাপ থাকা পলাশই হঠাৎ চিৎকার করে উঠল,
আয় বন্ধুরা! আজ সিনেমা-টিনেমা বাদ।
চল, অসভ্যের মতো ভিজি।
সিনেমা অন্যদিন দেখা যাবে।
আমরা হেসে উঠলাম।
তারপর কে কখন কার হাত ধরেছিল মনে নেই।
শুধু মনে আছে, আমরা বৃষ্টির মধ্যে হাঁটছিলাম,
গলা মিলিয়ে গাইছিলাম—
"আমরা সবাই রাজা, আমাদেরই রাজার রাজত্বে..."
সিনেমাটা আর দেখা হয়নি।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।