স্বাধীনতার পুনঃপাঠ
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্যকবিতা | জানুয়ারি ২৬, ২০২৬
আবার হাঁটা শুরু হোক—
এই থেমে থাকা, মাথা নত সময়ের বিরুদ্ধে।
কথা বলার অধিকার ফেরাতে,
মুক্ত কণ্ঠের স্বর উদ্ধার করতে।
মাথা উঁচু করে বাঁচা কোনো বিলাস নয়—
এ এক ন্যূনতম দাবি, যা বহুদিন ধরে স্থগিত।
যে দেশে সন্তানের নিরাপত্তা
একটি অনিশ্চিত ধারণা,
সে দেশ বাসযোগ্য থাকে না—
শুধু মানচিত্রে টিকে থাকে।
আমাদের জাগতে হবে,
কারণ ঘুম এখন রাজনৈতিক অস্ত্র।
পরজীবীরা মুখোশ পরে রক্তের ভেতরেই ঘর বানিয়েছে—
সেই মুখোশ ছিঁড়তে হবে।
বিবিধ কণ্ঠের মিলনেই ঐক্যের সত্যিকারের গান।
আমাদের ঐক্যতান আর ভাঙতে দেওয়া যাবে না,
কারণ বিভাজনই সবচেয়ে সস্তা শাসনপদ্ধতি।
প্রকৃত স্বাধীনতার অসম্মান বিশ্বের সামনে আমাদের
চোখ নামিয়ে দেয়।
লাখো শহীদের রক্ত আজ ব্যাখ্যার বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হায় স্বাধীনতা— তোমাকে আমরা কতভাবে ব্যবহার করেছি,
কতভাবে ভুল বুঝেছি।
কি চেয়েছিলাম,
আর কি হাতে এসে জমেছে—
এই হিসেব এখন আর এড়ানো যাবে না।
আইনের মুখ পুড়ে যায় যখন ন্যায়বিচার
কয়েকজনের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হয়ে ওঠে।
রাষ্ট্র তখন কাগজে থাকে,
মানুষের ভেতর থেকে সরে যায়।
এবার বোঝার সময়— রাত জাগা মানে শুধু জাগা নয়,
রাত জাগা মানে দায় নেওয়া।
শপথ নিতে হবে নীরবতার বিরুদ্ধে।
অশুভ শক্তির পতন কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়—
তা ঘটে মানুষের পায়ে পায়ে হাঁটায়,
মহামিছিলের ক্লান্ত নিঃশ্বাসে।
স্বাধীনতা,
তুমি সাক্ষী থেকো—আমরা আবার দাঁড়িয়েছি,
ভাঙা স্বপ্ন নিয়ে, কিন্তু অটল ইচ্ছা নিয়ে।
#স্বাধীনতা #বাংলাকবিতা
#রাজনৈতিককবিতা #পুনর্জাগরণ
#ঐক্য #BanglaPoetry
#মনন #প্রতিবাদ
#রাষ্ট্র #কবিতারপাঠ
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।