দুধে-ভাতে থাকার প্রার্থনা
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্য কবিতা। মে ০৪, ২০২৬
আজকের অস্থির দিনের ভেতর
আমি পড়ে ছিলাম এক পুরোনো গল্পের পাশে—
পাতায় পাতায় যুদ্ধ নয়,
মানুষের ক্ষুধা আর স্থির অপেক্ষা।
শেষ পৃষ্ঠাটা বন্ধ করতেই
ঘরের আলোটা একটু বদলে গেল,
যেন জানালা দিয়ে ঢুকে পড়ল
কোনো অচেনা স্নিগ্ধতা।
আমি ধর্মকে দূরে রাখি না,
মন্দির-মসজিদ আলাদা করে দেখি না—
আমার কাছে ধর্ম মানে
একই ক্ষুধার পাশে আরেকটা হাত রাখা।
আমার পথ আজমীর থেকে বেলুড়ে গড়ায়—
পাথরের ভেতর নয়,
মানুষের চোখের ভেতর খুঁজি স্থিরতা।
নিজের হাতে যখন এক মুঠো আসে,
আমি আগে গুনে নিই না,
কে পেল না, কে রয়ে গেল—
এই প্রশ্নটাই আগে দাঁড়ায়।
আমার সময়ের ভেতর
একটা গোধূলি আলো সবসময় থাকে,
যেখানে শুধু
নরম স্বীকারোক্তির আলো।
আমি দেখি,
জীবন বড় কিছু নয়—
একটা ভাগ করে নেওয়ার অভ্যাস।
যে মানুষ পাশে হাঁটে,
তার খালি হাতটা আমারই দায়িত্ব হয়ে যায়।
সব বিশ্বাস শেষে এসে
এক জায়গায় দাঁড়ায়—
মানুষ বাঁচলে তবেই ঈশ্বর অর্থ পায়।
আর সন্ধ্যা নামার আগে
আমি খুব শান্ত গলায় বলি—
কেউ যেন খালি না থাকে,
কারও থালা যেন ফাঁকা না পড়ে।
এটাই আমার প্রার্থনা,
কোনো ধর্মগ্রন্থে লেখা নয়,
মানুষের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া
একটা নীরব অঙ্গীকার।
#কবিতা #বাংলাকবিতা #মানবতা #আধুনিককবিতা #অস্তিত্ব #অনুভূতি #সাহিত্য #নতুনলেখা
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।