যে নামটা আর ডাকা হয় না
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্য কবিতা । ২১ জুন,২০২৬
রাত বাড়লে মাঝে মাঝে দরজার কাছে একটা জোনাকি এসে বসে।
আমি দরজা খুলি না।
তবু কেমন একটা মনে হয়— ওপাশে কেউ দাঁড়িয়ে আছে।
হাতে কিছু নেই।
কোনো অভিযোগও নেই।
শুধু যেন অনেক দিন আগে হারিয়ে যাওয়া একটা নাম ফেরত দিতে এসেছে।
এই ঘরটা আসলে অনেক কিছু মনে রাখে।
জানালার পাশে রাখা পুরোনো চেয়ারটা, টেবিলের কোণে পড়ে থাকা শুকনো কলমটা, আলমারির ভেতর চাপা দিয়ে রাখা কয়েকটা কাগজ।
এসবের দিকে তাকালে মনে হয়,
কিছু কথা বলা হয়নি বলেই হয়তো এতদিন থেকে গেছে।
মানুষ চলে গেলে প্রথমে তার অভাবটা বোঝা যায় না।
বোঝা যায় ছোট ছোট জিনিসে।
সকালে চায়ের কাপটা যেখানে রাখত,
সেখানে আর কেউ রাখে না।
বৃষ্টির সময় জানালাটা একটু খুলে দেওয়ার কেউ নেই। হঠাৎ কোনো পুরোনো গান শুনে কেউ বলে না— "এই গানটা মনে আছে?"
এই ছোট ব্যাপারগুলোই পরে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে।
জোনাকিটাকে দেখি।
ভাবি, ও কি সত্যিই বাইরের কোনো আলো?
নাকি অনেক দিন ধরে নিজের ভেতরে লুকিয়ে রাখা কোনো স্মৃতি, ভুল করে আজ দরজার কাছে এসে দাঁড়িয়েছে?
কত নাম মানুষ ভুলে যায়।
কত মুখ, কত রাস্তা, কত বিকেল
সময়ের সঙ্গে সবকিছু একটু একটু করে ঝাপসা হয়ে যায়।
তবু কিছু নাম আছে,
যেগুলো মুখে আর বলা হয় না।
শুধু গভীর রাতে,
নিজের অজান্তেই মনে হয়— কেউ একজন যেন সেই নাম ধরে ডাকল।
আমি বাতি জ্বালাই না।
অন্ধকারে কিছু জিনিস পরিষ্কার দেখা যায়।
যেগুলো আলো জ্বালালে আবার লুকিয়ে যায়।
এই ঘরে এখন আর কান্নার শব্দ নেই।
অভিযোগও নেই।
শুধু কিছু পুরোনো দিন চুপচাপ বসে থাকে।
জোনাকিটা এখনও দরজার কাছে আসে।
হয়তো কেউ একজন অনেক দূরে চলে গিয়েও পুরোপুরি চলে যেতে পারেনি।
হয়তো সে নিজেও ভুলে গেছে,
কোন নামে একদিন তাকে ডাকা হতো।
আর আমি ভেতর থেকে শুধু বুঝতে পারি
কেউ একজন ছিল,
যে একদিন আমার অন্ধকার ঘরে এসে কিছুটা আলো রেখে গিয়েছিল।
আলোর নামটা মনে নেই।
শুধু মনে আছে,
সেই সময়টা একটু অন্যরকম ছিল।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।