তুই নেই
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্য কবিতা। ৫ আগষ্ট, ২০২৬
তুই এসেছিলি একদিন, খুব চুপচাপ।
কোনো বড় ঘোষণা ছিল না,
কোনো নাটকীয় মুহূর্তও না।
তবু ঠিক সেই দিন থেকেই
আমার ভেতরের আকাশটা বদলে গিয়েছিল।
তোর চোখে তাকালে মনে হতো
দূরের কোনো নীল নদী আমার দিকে বয়ে আসছে।
হাসলে বুকের ভেতরটা হালকা হয়ে যেত,
কারণ না থাকলেও হাসতে ইচ্ছে করত।
আমরা খুব বড় স্বপ্ন দেখিনি।
একসাথে হাঁটার কথা বলেছিলি,
হাত ধরার মতো সহজ কিছু কথা।
সেই সহজ কথাগুলোই
আজ সবচেয়ে কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
তারপর একদিন সব বদলে গেল।
ঝড়ের মতো না,
বরং ধীরে ধীরে,
অদৃশ্যভাবে।
আমি বুঝে ওঠার আগেই তুই দূরে সরে গেছিস।
এখনও রাত নামলে জানালার পাশে দাঁড়াই।
চাঁদ ওঠে, আলো পড়ে,
তবু সেই আলো আমার ভেতরে ঢোকে না।
মনে হয় আকাশটা আছে,
কিন্তু তার রং ফিকে।
স্বপ্নগুলো আজও তোর নাম জানে।
আমি ভুলে যেতে চাইলে ওরা ভুলতে দেয় না।
অকারণে তোর কথা মনে পড়ে,
অকারণে বুকের ভেতর টান লাগে।
অনেকবার নিজেকে বলেছি, এবার থাম।
সবকিছু শেষ।
কিন্তু ভালোবাসা কি আদেশ মানে?
সে তো রয়ে যায়,
চুপচাপ, অদৃশ্যভাবে।
তুই নেই — এই সত্যিটা মেনে নিতে সময় লাগে।
কিছু কিছু শূন্যতা কোনো শব্দে ভরে না।
শুধু থেকে যায়।
তবু ভাঙা মানেই শেষ না।
ঝড়ে গাছের ডাল ভাঙে,
কিন্তু গাছটা বেঁচে থাকে।
আমিও তেমনই।
আজ আমি একা হাঁটি।
পাশে তোর হাত নেই,
তবু পথ থেমে নেই।
ধীরে ধীরে শিখছি, হারিয়েও বাঁচা যায়।
তোর স্মৃতি আছে,কখনও কাঁদায়,কখনও শক্ত করে।
মনে হয় তুই না থাকলে হয়তো
আমি নিজেকে এতটা চিনতাম না।
ভালোবাসা শেষ হয়নি,
রূপ বদলেছে শুধু।
আগের মতো আগুন না,
এখন সে নিভু নিভু আলো, তবু জ্বলছে।
একদিন হয়তো নতুন কারও দিকে তাকিয়ে
আবার হাসতে পারব।
ভয় ছাড়া, দ্বিধা ছাড়া।
কারণ মানুষ ভাঙে,
কাঁদে, তবু উঠে দাঁড়ায়।
আমিও দাঁড়াবো।
তুই নেই এই কথাটা সত্যি।
তবু তোর দেওয়া ভালোবাসা
আমার ভেতরেই আছে।
সেখান থেকেই আমি আবার শুরু করব।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।