আসলে মনটা ভালো না আজ।
আর শরীর—সে তো একেবারেই শেষ;
বেঁচে আছি মুমূর্ষু হয়ে।
মাঝে মাঝে চিন্তা করি, খুব ভালো লাগত যদি পাখির মতো উড়তে পারতাম।
গোধূলির আলো-ছায়ায় উড়ে বেড়াতাম ঐ সাদা শুভ্র মেঘে ভরা আকাশটায়।
তুমি হয়তো জানো না—আমার বাড়ির বারান্দায় এক জোড়া চড়ুই পাখি বাসা বেঁধেছে।
আমি রোজ রাতে ওদের সাথে গল্প করি।
ওদের খুনসুটি আমাকে বিমোহিত করে।
কখনো ওদের ভালোবাসা আমার জীবনবোধকে নাড়িয়ে দেয়।
হঠাৎ একদিন পুরুষ চড়ুইটা একা ফিরে এলো; ওকে একা দেখে আমি বললাম,
“তোমার সাথি কোথায়?”
ও বলল, “পড়োজার ছোট্ট ঘরটা ওর পছন্দ হয়নি; তাই নতুন জীবনের খোঁজে চলে গেছে অন্য কোথাও।”
বেশ উদাসীনভাবে চলতে লাগল পুরুষ চড়ুইটির দিন।
এভাবে পার হলো কিছু দিন, কিছু মাস…।
আবার একদিন নতুন এক সাথি নিয়ে ফিরে এলো পুরুষ চড়ুইটি।
এবার ওকে বেশ লাগছিল—মনে হলো হারানো দিন আবার ফিরে পেয়েছে।
বাইরে সেই রাতে প্রচণ্ড বৃষ্টি।
বৃষ্টির ঝাপটা বারবার আমাকে এক অজানা আবেশে নিয়ে যেত।
ছন্দপতন ঘটলো ঐ পাখিটির তীব্র আর্তনাদে; দেখলাম আজ ও একা, ঝড়ে বিধ্বস্ত।
আমি বললাম, “কি হলো আজ?”
ও বলল, “দুপুরে এক শিকারীর তীরের আঘাতে আমার সাথির বুক ছেঁড়ে গেছে।
ওর বুক থেকে ফোঁটা ফোঁটা রক্ত আজও আমার পালকে লেগে আছে।”
প্রচণ্ড কান্নার মাঝে, আবেগজড়িত কণ্ঠে আমাকে প্রশ্ন করলো,
“জীবন তো একটা, তবু এক জীবনে এতো কষ্ট কেন?”
আমি জীবনের এ প্রান্তে এসেও পাখিটির সেই প্রশ্নের কোনো জবাব দিতে পারিনি।
এ প্রশ্নের উত্তর আমি খুঁজছি বহু বছর—খুঁজে খুঁজে ক্লান্ত হয়েছি।
এখন আর জীবনের কোনো কিছুই আমি খুঁজতে যাই না; শুধু চেয়ে দেখি আর ভাবি—আমি তো বড় একা, শুধু একা।
তুমি কি এ প্রশ্নের জবাব জান?
“জীবন তো একটা, তবু এক জীবনে এতো কষ্ট কেন?”
জান কি তুমি?
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।