একলা মেঘের শহর
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্যকবিতা | ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২৬
আজ শহরের ওপর মেঘ নামে না,
ঝুলে থাকে—
হাসপাতালের বারান্দায় শুকোতে দেওয়া ভেজা চাদরের মতো।
চায়ের দোকানে একটা ভাঙা কাচ,
তার ভেতর দিয়ে সকালটা কেটে কেটে ঢোকে।
কাপের তলায় চিনি জমে আছে,
কিন্তু কেউ নেড়ে দেয়নি—
এই শহরে অনেক কিছুই আর নাড়ানো হয় না।
একজন লোক প্রতিদিন ঠিক আটটা পনেরোতে
বন্ধ শাটারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে।
সে অপেক্ষা করছে—এমন ভাব করে,
যেন অপেক্ষা করলেই পাপ হালকা হয়।
আমি জানি না সে কাকে খুঁজছে,
কিন্তু জানি—সে কাউকে পেলে হতাশ হতো।
আজ জানালা খুললে হাওয়া আসে না,
একটা পুরোনো আদালতের নোটিশ উড়ে এসে পায়ে লাগে।
তাতে লেখা—
“আপনি অনুপস্থিত ছিলেন।”
আমি প্রথমবার স্বস্তি পাই।
মেঘগুলো এত নিচে নেমেছে যে ট্রাফিক
সিগন্যালও বিভ্রান্ত।
সবুজ জ্বলে ওঠে,
কিন্তু কেউ হাঁটে না।
এই শহরে মানুষ হাঁটে না,
নিজেকে সরিয়ে নেয়।
ফুটপাথে পড়ে থাকে এক জোড়া শিশুর স্যান্ডেল—
আমি তাকাই,
তারপর দ্রুত চোখ সরিয়ে নিই।
এটা কোনো কবিতার দৃশ্য না,
এটা আমার ব্যর্থতা।
রাত নামলে বাড়িগুলো একে অপরের দিকে মুখ ফেরায়।
কেউ কাউকে দেখে না,
শুধু জানে—দেখা উচিত ছিল।
মেঘ আর শহর আজ আলাদা নয়।
দুটোই ভারী,
দুটোই মুখ খুললে দোষ স্বীকার করতে হবে।
আমি দাঁড়িয়ে থাকি নিজেকে বাঁচানোর জন্য নয়,
শুধু নিশ্চিত হতে—
এই দাঁড়িয়ে থাকাটাই কি আমার অপরাধ।
#একলা_মেঘের_শহর #কবিতা #আধুনিককবিতা #একাকীত্ব #বিষণ্ণতা #মেঘ #শহরেরকবিতা #নিঃশব্দ #বাংলাসাহিত্য #অনুভূতি
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।