নীরবছায়া
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্যকবিতা | ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২৬
শহরের রাস্তা ফাঁকা,
পায়ের আওয়াজ নিজেকে খুঁজে পায়।
ফুটপাতের কোণে দাঁড়িয়ে থাকা বৃদ্ধার ব্যাগে ভাঙা রুটি,
আর চোখে অচেনা চিন্তার ছায়া।
ছাদগুলো দাঁড়িয়ে আছে—নিঃশব্দে,
বৃষ্টির পরে সেঁকানো কাদার গন্ধ মেখে।
মেঘেরা আকাশে লুকোচুরি খেলে,
হঠাৎ বিদ্যুতের ঝলক কাচের জানালায় ঠিকরে পড়ে—
ক্ষণিকের আলোয় দেখা যায় ভেতরের গভীর অন্ধকার।
মানুষ হাঁটে, চোখে আশার রেখা,
কিন্তু প্রতিটি পদক্ষেপে অজানা ঝুঁকি।
ফ্লাইওভারের নিচে কাকেরা চুপচাপ বসে থাকে,
বাতাস বইছে ভারি, ভেজা অ্যাসফল্টের গন্ধ নিয়ে।
শহরের এই নীরব আলিঙ্গনে,
একলা গাছের ছায়ায়—
শিশুদের কণ্ঠও আজ ম্লান,
শুধু ভিজে যাওয়া কিছু কাগজ মাটিতে লুটে থাকে।
ঘণ্টার কাঁটায় সময় থমকে যায়,
একটি ফোঁটা বৃষ্টি মনে করিয়ে দেয় ভুলে যাওয়া অতীত।
আমি জানি, কেউ আসবে না, কেউ নেই,
শুধু একটি ভাঙা সাইকেলের প্রতিচ্ছবি
রাস্তার ধারে ছায়ার সঙ্গে কথা বলে।
জীবন যেন এক রঙিন ধোঁয়া,
হাওয়ায় মিশে যায় অচেনা রূপে।
তবু কফি শপের কোণে
একটি ছেলের প্রাণখোলা হাসি
হঠাৎ মনে করিয়ে দেয়—এ শহরও বেঁচে আছে।
প্রতিটি জানালা স্বপ্ন দেখায়,
যদিও সেখানে জ্বলে কেবল একলা আলো।
মৃত্যু আসে না ঠিক,
তবু তার ছায়া অনুভূত হয় প্রতিটি মোড়ে।
জীবন এবং ক্ষণিকের নিরাপত্তা
লুকোচুরি খেলে শহরের অলিতে গলিতে।
হঠাৎ ফুটপাথের কোণে দুটো শিশু—
পাথরের সঙ্গে খেলছে,
তাদের অদ্ভুত খিলখিলানি
শহরের এই কৃত্রিম গাম্ভীর্যকে ভেঙে চুরমার করে দেয়।
রাত বাড়ে, ছায়ারা দীর্ঘ হয়,
আমি হেঁটে যাই—নিজেকে বাঁচানোর জন্য নয়,
শুধু এই শহরের স্পন্দনে নিজের অস্তিত্বটুকু মিলিয়ে নিতে।
#নীরবছায়া #গদ্যকবিতা #আধুনিককবিতা #শহরেরজীবন #বাংলাসাহিত্য #একাকীত্ব #অপ্রত্যাশিত_ছবি #মানুষেরলেখা #অনুভূতি
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।