নোনা শূন্যতার দিকে
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্য কবিতা। ৭ আগষ্ট, ২০২৬
কবিতা ফুরিয়ে গেলে যে নীরবতা নামে,
সে কোনো সাধারণ নীরবতা নয়।
তার ভেতরে জমে থাকে অনেক না-বলা কথা,
অর্ধেক উচ্চারণ,
দীর্ঘশ্বাসের ভাঙা প্রতিধ্বনি।
মাঝে মাঝে ভাবি,
মৃত মানুষের চোখ কি এমনই হয়?
খোলা পড়ে আছে, অথচ কিছুই দেখছে না,
তবু তাকিয়ে আছে
অন্য এক অনির্বচনীয় শূন্যতার দিকে।
একদিন আমরা নেমেছিলাম সুখের জলে।
মনে হয়েছিল, এই যাত্রা হবে হালকা,
ঢেউগুলো হবে নরম।
কিন্তু নোনা জল বড় তাড়াতাড়ি ভারী হয়ে ওঠে,
হাসির ভেতরেও রেখে যায় লবণের দাগ।
জাবর কাটতে কাটতে মন যে কখন
নিজের ভেতরেই বিষ বানিয়ে তোলে,
টেরও পাওয়া যায় না।
অমৃতের স্মৃতি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে
জিভে রেখে যায় শুধু তীব্র ঝাঁঝ।
দেয়ালের কোণে আধ-আঁকা ছবিগুলোয়
ধুলো জমে সাদা হয়ে আছে।
এখন আর কেউ রং গোলে না,
কেউ বলে না, এখান থেকেই আবার শুরু করি।
ছবিগুলো শুধু তাকিয়ে থাকে—
নির্বোধ, নির্বাক,
সময়ের লম্বা করিডোরের দিকে।
যে চলে গেছে, সে তো চলেই গেছে।
তার পায়ের শব্দও মিলিয়ে গেছে কবেই।
তবু মাঝে মনে হয়,
মহাশূন্যের দিক থেকে এক মৃদু ডাক ভেসে আসছে।
কেউ স্পষ্ট করে হাতছানি দেয় না,
তবু বাতাসে একটা টান টের পাই।
তখন এক পাগল মাঝি হাল ছাড়ে না,
বরং ভুলে যায় কোনটা পূর্ব, কোনটা পশ্চিম।
সে ভুলকে মিশিয়ে দেয় ঠিকের সঙ্গে,
হারার মধ্যেই রেখে দেয় তার শেষ বাজি।
ডুবতে ডুবতেও ভাবে,
হয়তো এভাবেই পৌঁছে যাওয়া যায় অজানায়।
শেষ বৃষ্টির দিনটা আর মনে নেই।
মাথার ওপরে কোন আকাশ ছিল,
কাঁধের ওপর কোন মেঘ ভেঙে পড়েছিল।
শুধু মনে আছে,
ভেসে গিয়েছিল কিছু মৃদু কোলাহল,
যা একসময় খুব প্রিয় ছিল।
এখন ঢেউ ওঠে ধীরে,
ফেনায় ভরে যায় শূন্যতা।
নীল গভীরতা থেকে উঠে আসে তীব্র আগুন,
যার তাপে বুক শুকিয়ে যায়।
অন্য জগতের মতো এক শূন্য সারি
দূরে দাঁড়িয়ে থাকে,
কেউ সেখানে যায় না,
কেউ ফেরেও না।
সময়ের বাঁকে বাঁকে
এক দিকভোলা হাওয়া কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বলে,
এই তরী বাওয়া বৃথা।
তবু দূরে, অনেক দূরে,
একটা বাতিঘর স্থির দাঁড়িয়ে থাকে।
তার আলো ঠিক জ্বলছে না,
তবু নিভেও যাচ্ছে না।
যেন তার কাজ শুধু অপেক্ষা করা,
আমাদের জন্য নয়,
আমাদের হারিয়ে যাওয়ার জন্য।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।