ঈর্ষার শহর
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্য কবিতা। ২৬ আগষ্ট, ২০২৬
“তোর ইনস্টাগ্রামটা ও-ও দেখে?”
প্রশ্নটা খুব ছোট ছিল,
তবু সেদিন সন্ধ্যাটা অকারণে দীর্ঘ হয়ে গিয়েছিল।
আমি হেসে বলেছিলাম, “দেখুক।”
মনের ভেতর তখন কেউ একজন খুব আস্তে
একটা পুরোনো দরজা খুলছিল।
কিছু মানুষ চলে যায়,
কিন্তু তাদের চলে যাওয়ার সঙ্গে তাদের জন্য রাখা জায়গাটা খালি হয় না।
বরং শহরের ভিড়ে হঠাৎ কোনো মুখ দেখলে,
কোনো দোকানের কাঁচে নিজের প্রতিচ্ছবি পড়লে,
মনে হয়,
এই তো, এইমাত্র পাশ দিয়ে গেলি।
তোর কথা মনে পড়লে আমার ঘরের জিনিসগুলোও বদলে যায়।
বইয়ের ভাঁজে রাখা পুরোনো কাগজ,
অর্ধেক খাওয়া চকোলেট,
ফোনের গ্যালারিতে ভুল করে থেকে যাওয়া ছবি,
সবকিছু তখন অন্য এক সময়ের সাক্ষী হয়ে দাঁড়ায়।
কখনো গভীর রাতে ফোনের পর্দায় তোর নামটা
এমনিই চলে আসে।
অনেকদিন আগের একটা কথোপকথন এখনও মুছে ফেলতে পারিনি।
কী আশ্চর্য,
মানুষ চলে যায়,
কিন্তু তার সঙ্গে বলা কথাগুলো কোথাও যায় না।
তুই হয়তো এখন অন্য কারও সঙ্গে হাসিস,
অন্য কারও অপেক্ষায় রাত জাগিস,
অন্য কারও নাম শুনে তোর বুকের ভেতর আলো জ্বলে।
এগুলো ভাবলে ঈর্ষা হয়।
খুব হয়।
তবু সেই ঈর্ষার মধ্যেও একটা অদ্ভুত মায়া লেগে থাকে,
তুই ভালো থাকিস।
শুধু কোনো এক বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় এই শহরের কোনো পুরোনো রাস্তায় হঠাৎ যদি আমার কথা মনে পড়ে,
তখন একবার থামিস।
ফিরে আসার জন্য নয়।
শুধু মনে করার জন্য,
তোর অনুপস্থিতির সঙ্গে আমি বাঁচতে শিখে গেছি।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।