তুমি একটা গান প্রায়ই গলা ছেড়ে গেয়ে উঠতে, “তবু মনে রেখো”।
আজ এই ভাঙন মেলায় দাঁড়িয়ে,
আমারও ওই গানটা গাইতে ইচ্ছে করছে।
পার্কের রাস্তার এই বাদামী অপরাহ্নে খুব মনে পড়ছে তোমার কথা।
আমার সামনে পড়ে থাকা ল্যাপটপটা জ্বরাক্রান্ত।
চোখ বন্ধ করলেই সামনে চলে আসছে
আমার প্রিয় এক মেরুন ওড়না,
যার ভাঁজে জমা রয়ে গেছে আমাদের আন্তরিক সময়ের কিছু প্রিয় সন্ধ্যা।
আমার শেষ বেলায় তুমি ওই ওড়নাটা দিয়ে ঢেকে দিয়েছিলে আমাকে,
আর ওই ওড়নাটার নাম রেখেছিলে “স্বাধীনতা”।
সামান্য দূরে পড়ে থাকা চেয়ারটাও এখন ডানা ঝাপটাচ্ছে,
ছাই উড়ছে ওর চারপাশে।
খুব মনে পড়ছে আমাদের কাটানো সময়ের
স্মৃতিতে পুড়ানো সেই ছাই-দানিটার কথা।
মনে পড়ছে তোমার সেই কফি-পান করার
কাপটার কথা।
তুমি বকাবকি করতে করতে হাসতে, সঙ্গে অনন্ত প্রশ্রয়।
আচ্ছা, ওই কাপটা কি তুমি রেখে দেবে আজীবন?
অথবা আমাদের ফুলদানিটা, যেখানে আমার পদ্মপুকুর এখনও সাজানো আছে ভ্রমরের পাশে?
আজ ভাঙনের দিনে আমি এক লতানো গাছ,
শেষ অবলম্বনটুকুও হারিয়ে ফেলছি ধীরে ধীরে।
বড় কষ্ট হচ্ছে এই ভেবে,
যে আজ আর আমার সন্ধ্যা দেখা হবে না।
অথচ আমাদের ব্যস্ততার আড়ালে এমন
কত সন্ধ্যা না জানিয়ে মিশে গেছে রাতের অন্ধকারে!
সে এক সন্ধ্যায়, বাইরে ট্রেন চলার শব্দ,
ভিতরে চেয়ারের কোল ঘেঁষে মেঘরাঙা প্রেম।
মনে হচ্ছিল একমনে সন্ধ্যা হেঁটে বেড়াচ্ছে
আমাদের ঘরের মেঝেতে,
আর আমরা ঘরের মধ্যে আরেকটা ঘর
তুলে মিশে যাচ্ছি জোনাক-মেলায়।
সেদিনও তোমার সাথী ছিল ওই মেরুন ওড়না।
আমার মাথায় তুমি সেই মেরুন ওড়না আলতো বিছিয়ে দিয়ে বলেছিলে,
“তুমি প্রজাপতি আর আমি ফুল।”
আজ, এতদিন পর,
আমি সত্যিই প্রজাপতি—
ফুরিয়ে যাচ্ছি, উড়ে যাচ্ছি,
ফুলকে একলা ফেলে রেখে।
সেদিন স্নানশেষে সাদা টাওয়েল, নগ্ন গা,
আমি বেরিয়ে আসছি স্নানঘর থেকে।
তুমি কবিতার রঙ মেখে কাছে এলে,
কামড়ে দিলে আমার কড়ে আঙুল।
আমি এখন আগুনের নজরে নজরবন্দী।
শেষবেলায় যদি চিনতে না পারো,
একবার সেই কড়ে আঙুলে চোখ রেখে দেখো,
আমি অনেক যত্নে এখনও ওখানে সাজিয়ে
রেখেছি তোমার অধরের শব্দ।
#অধরের_শব্দ #গদ্যকবিতা #প্রেম_গল্প #ভালোবাসা #মোহাম্মদ_জাহিদ_হোসেন #সাহিত্য #বাংলা_গদ্য #ভাঙন #স্মৃতি #প্রজাপতি #স্বাধীনতা #আবেগ
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।