অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্যকবিতা | জানুয়ারি ২৬, ২০২৬
ভোর আসে—এ কথা এখন আর নিশ্চিত নয়,
হয়তো আসে, হয়তো আসে না,
অথবা এসে কাউকে খোঁজে না।
আলো আজ নিরপেক্ষ,
তার কোনো দায় নেই আমাদের জাগিয়ে তোলার।
শহর নিয়ম মেনে শ্বাস নেয়,
মানুষও নেয়—কিন্তু সেই শ্বাসে আর জীবন নেই,
শুধু চলমান থাকার জেদ।
একসময় স্পর্শ মানে ছিল প্রমাণ,
এখন স্পর্শ মানে সন্দেহ।
কে কাকে ছুঁবে—এই সিদ্ধান্ত নিতে নিতে
মানুষ একা হয়ে গেছে।
সময় আর প্রশ্ন শোনে না,
সে এগোয়—ঠিক যেমন মৃত্যু এগোয়,
শান্ত, অবিরাম, অপ্রতিরোধ্য।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখি
একটি শরীর—যার ভেতরে মন আছে,
কিন্তু দিকনির্দেশ নেই।
পা জানে কোথায় যাবে,
মন জানে না কেন যাবে।
সব রঙ আসলে আলো-অন্ধকারের ভিন্ন মাত্রা,
কিছু উজ্জ্বল, কিছু ক্লান্ত।
যা সাজানো বলে মনে হয়,
ভেতরে ভেতরে তা ভেঙে পড়ছে প্রতিদিন।
মানুষ মানে খোঁজে—কারণ শূন্যতা সহ্য হয় না।
কিন্তু সবাই খুঁজে পায় না,
আর যারা পায় না,
তারা ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যায়।
তারা কোনো বিদ্রোহ করে না,
কোনো শব্দও করে না।
শুধু একদিন থাকার অভ্যাসটুকু হারিয়ে ফেলে।
আমি এখন অস্তিত্ব আর অনস্তিত্বের মাঝখানে,
একটি অসম্পূর্ণ বাক্যের মতো।
না শেষ হতে পারি,
না শুরুতে ফিরতে পারি।
এই অন্ধকারই হয়তো শেষ সত্য—কারণ এখানেই
কোনো ভান নেই,
কোনো প্রতিশ্রুতি নেই,
শুধু মানুষ—নিজের মুখোমুখি।
#ডার্কএক্সিস্টেনশিয়াল #বাংলাকবিতা
#অস্তিত্ববাদ #নীরবতা #মানুষ #BanglaPoetry
#দার্শনিককবিতা #মনন #অন্ধকার #কবিতারপাঠ
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।