বৃষ্টির দিনগুলো
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্যকবিতা | ফেব্রুয়ারি ০২,২০২৬
এমন বৃষ্টি হলে স্কুলে হাফ ডে হত।
লম্বা বারান্দা জুড়ে তখন ছুটি ছুটি রব।
ছেলেমেয়েরা ছুটে বেড়াত,
পায়ের নীচে জল ছিটকে ওঠত,
আর গলায় দিয়ে আসত খুশির চিৎকার।
মেঘের মতো আওয়াজ করা দিদিমণিরাও
চুপিসারে ভিজত বৃষ্টিতে,
হাসি ও শাসনের মধ্যে মিলিয়ে।
ফিরতি পথে কারো দেখা মেলা ভার।
কারণ ভালো ছেলেরা বৃষ্টি ভেজে কম।
মায়ের আঁচলছায়ায় ভরা প্লেট পিঁয়াজি খেতে খেতে
শার্সিতে জল গড়ানো দেখতাম—
এই ছোট্ট দৃশ্যেই আনন্দ ভেসে আসত,
হয়তো কেউ মনে মনে কাব্যও করত।
বাড়ি ফিরলেও কোনো শান্তি নেই।
ফিরিস্তি দিতে দিতে বেলা গড়ায়,
তারপর খানাপিনা।
এর মাঝে পর্দা সরিয়ে সামনের বাড়ির কাকিমার সঙ্গে ছোটখাটো বার্তালাপ—
“আজ কচুশাক করেছি ছোলা দিয়ে, খাবি?”
মুখে লাজুক হাসি, চোখে কৌতূহল,
বৃষ্টি তখনও থামেনি, মেঘ কাটত দেরিতে।
চোখ খুলে টের পেতাম, মা ফিরেছে।
অল্প একটু স্বস্তি, তার পদচারণার শব্দ,
পিঠে হাত বুলানো—
এই সব অনুভবেই শেষ হতো বৃষ্টির দিন।
এরপর বইপত্র হাতে না নিলে রোজকার মতো মনোরথ স্যার,
“তোর কিচ্ছু হবে না বুঝলি?”
এবারও মনে পড়ে সেই সতর্ক কণ্ঠ,
যা কখনও ভয় দেয়, কখনও হাসি ফোটায়।
বৃষ্টির এই দিনগুলো শুধু জল নয়।
স্মৃতি ভেসে আনে আনন্দ, শৈশব,
মায়ের যত্ন, বোনের নিঃশব্দ ভালোবাসা,
সামনের বাড়ির কাকিমার খামখেয়ালী হাসি।
বৃষ্টি ভেজা ফুটপাথে ধুলো মিশে থাকা,
ছোট্ট পায়ের ছাপ, চপ্পলের আওয়াজ,
একত্রে মিশে যায় মনভরা আনন্দে।
প্রতিটি টুকরো মুহূর্ত মনে করিয়ে দেয়—
এই জীবন ছোট, তবে সুখ বড় হতে পারে।
যখন মেঘ ফেটে সূর্যের আলো নেমে আসে,
বৃষ্টির জল শুকিয়ে যায়, কিন্তু সেই বৃষ্টির গন্ধ,
মাটির ঘ্রাণ,
ভেজা গাছের পাতা—সবই আমাদের সঙ্গে থেকে যায়।
এই বৃষ্টির দিনগুলো শেখায়,
ভালোবাসা শুধু হাসি নয়,কিছুক্ষণের উদ্দীপনা নয়,
এটি স্মৃতি, অনুভূতি,
মায়ার ছোঁয়া—যা শৈশবকে অমর করে রাখে।
বৃষ্টি ভেজা দিনগুলোতে আমরা শিখি—
ছোট্ট সুখ, ছোট্ট চাওয়া,
একসাথে থাকা,
এটাই প্রকৃত আনন্দ।
সেই আনন্দ বয়ে নিয়ে যায় জীবনের প্রতিটি কোণে,
যেখানে আমরা বড়ো হয়ে গিয়েও একটি শিশুর মতো হাসতে পারি।
#বৃষ্টি_ভেজা_শৈশব #স্মৃতি #বাংলা_গল্প
#শৈশবের_আনন্দ #মায়ার_স্পর্শ #বাংলা_সাহিত্য
#EmotionalBanglaStories
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।