আমার আর সুষুপ্তের কথোপকথন
[ উল্লেখ্য , এটা শুধু বিনোদন এর জন্য, তবে বিনোদনের হলেও শিক্ষা আছে ]
সুষুপ্ত পাঠক: আচ্ছা মেহেদী তুমি কি স্রষ্টাই বিশ্বাস কর?
মেহেদী : হ্যা করি তো
সুষুপ্ত পাঠক : তুমি যে স্রষ্টাই বিশ্বাস কর বিজ্ঞানের ছাত্র হয়ে এটা ভাবতেই তো অবাক লাগে!
মেহেদী : বিজ্ঞানের ছাত্র বলেই বিশ্বাস করি ; তোমার মতো চারুকলা এর ছাত্র হলে বিশ্বাস করতাম না
সুষুপ্ত পাঠক : এত বড় বাঁশ ; দেখ মেহেদী তুমি কি জানো না, যেটাক দেখা যায় না, স্পষ্ট করা যায়, যায় কোনো প্রমাণ নেই সেই বিষয়গুলোতে বিশ্বাস করা কতটুকু যৌক্তিক?
মেহেদী : দেখা যায় না, স্পষ্ট করা যায় না, ইত্যাদি যদি কোনো কিছু বিশ্বাসের মানদণ্ড হয় তাহলে দুনিয়ার সবাই অন্ধ বিশ্বাসি
সুষুপ্ত পাঠক: মানে! আমি কোনো কিছুতে অন্ধ বিশ্বাস করি না, তুমি প্রমাণ কর, আমি অন্ধ বিশ্বাসি
মেহেদী : আচ্ছা, তুমি গণিত এর ভালো ছাত্র তাই না?
সুষুপ্ত পাঠক: হ্যা ; গণিত আমার প্রিয় সাবজেক্ট হঠাৎ গণিত এর কথা আসছে কেন?
মেহেদী : মিস্টার সুষুপ্ত, গণিত বলতে যে কিছু আছে সেটার প্রমাণ কি ? আমরা তো গণিত দেখি না, স্পষ্টও করতে পারি না, এদের কোনো গন্ধও নেই, কোনো রংও নেই , এক কথায় কোনো কিছুই নেই, কিন্তু এত কিছু না থাকার সত্যেও আমরা গণিতে কেন বিশ্বাসি?? বিশেষ করে তুমি??
সুষুপ্ত পাঠক : হ্যা তুমি ঠিকই বলেছো ; কিন্তু গণিত যে নেই সেটা এই দাবিগুলোর অস্তিত্ব প্রমাণ করার জন্য কোনো মানদন্ড না, কারণ আমরা গণিত এর ইফেক্ট পাচ্ছি সব সময়, যেমন: ২+২=৪, এরকম ভাবে গণিত ( এর বিভিন্ন অংশ) আমাদের মাঝে প্রভাব ফেলছে যেটা প্রমাণ করে গণিত আছে।
মেহেদী : বাহ চমৎকার! , নিজের বেলা ষোলো আনা আর আমার বেলায় চার আনা ; তোমার যুক্তি অনুসারে তো আমিও এখন বলতে পারি যে স্রষ্টা আছে, যদিও তাকে আমরা দেখতে পারি না, স্পষ্ট করতে পারি না কিন্তু ইফেক্ট তো সব সময় পাচ্ছি। ধরো এক কম্পিউটার, সেটা একজন কারিগর তৈরি করলেন, এখন আমরা যখন কম্পিউটার টা ব্যবহার করব তখন আমরা এটা খুব সহজেই বুঝতে পারব যে এটার কারিগর আছে, ঠিক ওই রকম ভাবে এই ইউনিভার্স....... তাহলে এটা অন্ধ বিশ্বাস হলো কি করে? তোমারটা যদি অন্ধ বিশ্বাস না হয়, তাহলে আমারটাও অন্ধ বিশ্বাস না বরং আমারটা আরও যুক্তি সঙ্গত
সুষুপ্ত পাঠক: কিভাবে! তোমারটা যুক্তি সঙ্গত??
মেহেদী : আমরা জানি এই ইউনিভার্স এর সবকিছু সসীম, এখন এই সসীমকে আনার জন্য অবশ্যই একটা অসীম এর প্রয়োজন, আর এই অসীমটাকেই আমরা স্রষ্টা বলি, যে সবকিছুই পারে
সুষুপ্ত পাঠক : তুমি ধর্মান্ধ, তোমরা আস্তিকরা সব কিছুতে... ধ্যাত তোমার সাথে কথা বলাটাই আমার ভুল , আমি চলে যাচ্চি,
মেহেদী : যাওয়ার আগে একটা প্রশ্নের উত্তর তো দিয়ে যাও
সুষুপ্ত পাঠক : হ্যা বল, কি প্রশ্ন
মেহেদী : আচ্ছা বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানিদের দেখি তারা ল্যাবে বিজ্ঞান এর চর্চা করে, কিন্তু আমাদের বাংলাদেশে দেখি তোমার মতো কলা বিজ্ঞানিরা চারুকলা ভবন, আর শাহবাগীতে গান্জা সেবন করে বিজ্ঞান চর্চা করে মানে গবেষণাগার রেখে এসব কেন?
সুষুপ্ত পাঠক :....
মেহেদী : ঠিক আছে বলতে হবে না, তুমি যেতে পারো হে কলা বিজ্ঞানি সুষুপ্ত পাঠক
কলমে : মোঃ মেহেদী হাসান
প্রিন্স ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।