একই সন্ধ্যা, তবু ভিন্ন কেন
একই সন্ধ্যা নামে প্রতিদিন,
একই আকাশ, একই আলো,
একই পথে মানুষ ফেরে,
তবু আজ কেন লাগে কালো?
একই জানালা, একই ঘর,
একই চেয়ারে বসি আমি,
একই বাতাস ছুঁয়ে যায়—
তবু কোথায় হারাল স্বামী?
না, এ কোনো প্রেমের গল্প নয়,
নয় কোনো হারানোর গান,
এ শুধু সময় বদলে গেলে
বদলে যায় চেনা অভিমান।
যে সন্ধ্যাতে হাসি ছিল,
আজ সে সন্ধ্যা নীরব কেন?
যে পথ ছিল আপন খুব,
আজ সে পথটা অচেনা যেন।
একই পাখি ঘরে ফেরে,
একই মেঘে আকাশ ঢাকে,
তবু আমার ভেতরটা আজ
কেন যেন অন্যরকম থাকে?
হয়তো আমি বদলে গেছি,
বদলে গেছে দেখার চোখ,
আগের মতো ছোট্ট সুখে
আজ আর কেন লাগে না সুখ?
একই চায়ের কাপটা আছে,
একই টেবিল, একই চেয়ার,
শুধু কোথায় হারিয়ে গেছে
সেই আগের সহজ ভোরের?
একই সূর্য ডুবে যায় আজ,
একই রঙে রাঙে আকাশ,
তবু বুকের ভেতর কেন
জমে থাকে অদ্ভুত নিঃশ্বাস?
সময় কি তবে এমনই—
কিছু না বদলিয়েও বদলায়?
একই দৃশ্য, একই পৃথিবী,
শুধু মানুষটা অন্য হয়ে যায়।
শৈশবের সেই সন্ধ্যাগুলো
আজও আসে স্মৃতির ভিড়ে,
তখন অল্পতেই সুখ ছিল,
আজ সুখ খুঁজি অনেক ঘিরে।
তখন আকাশ দেখলেই হাসি,
বৃষ্টি মানেই ছিল উৎসব,
আজ আকাশও প্রশ্ন করে—
“কোথায় গেল সেই সহজ স্বভাব?”
একই সন্ধ্যা, তবু ভিন্ন কেন?
উত্তর খুঁজি নিজের মাঝে—
হয়তো পৃথিবী বদলায়নি,
বদলেছি আমি সময়ের কাজে।
তাই আজ বুঝি—সব পরিবর্তন
চোখে দেখা যায় না কখনো,
কিছু পরিবর্তন নীরবে এসে
মানুষের ভেতর বসে যেন।
একই সন্ধ্যা আবার আসবে,
আবার পাখি ফিরবে ঘরে,
তবু আজকের এই অনুভূতিটুকু
থাকবে আমার মনের পরে।
সন্ধ্যা একই—আকাশও একই,
শুধু আমি আর
আগের নই,
এইটুকুই হয়তো উত্তর—
সময় বদলায় না সবসময়,
কখনো শুধু বদলে যাই আমরা।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।