নীলের ভেতর থেমে থাকা প্রবন্ধ
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
কথোপকথন। মে ০৬,২২৬
অভিকঃ—
তোমাকে প্রথম দেখার মুহূর্তটাই ছিল আমার কবিতা।
কথা বলার সময়টা—গল্প।
আর ভেবেছিলাম সামনে যে পথ—ওটাই হবে উপন্যাস।
নিশিঃ—
আবার শুরু করলে…
সবকিছু এত সুন্দর করে বলো তুমি।
কিন্তু একটা কথা বলো—
আমি কি শুধু তোমার লেখার টপিক?
অভিকঃ—
না, তা না… তুমি তো—
নিশিঃ—
ধুর, তুমি সবসময় কথার ভেতর পালাও।
আমি আলাদা কিছু হতে চেয়েছিলাম, অভিক।
একটা প্রবন্ধ—শুধু আমাকে নিয়ে।
পারবা?
অভিকঃ—
চেষ্টা করি…
কিন্তু তোমার চোখের জায়গায় এসে
শব্দগুলো কাজ করে না।
নিশিঃ—
ফোনের ওপাশে চুপ করে আছো কেন?
মগবাজারের সেই তিনতলার বারান্দাটা মনে আছে?
যেদিন প্রথম দেখা—বিকেলটা অদ্ভুত গরম ছিল।
অভিকঃ—
হ্যাঁ… তুমি নীল শাড়ি পরেছিলে।
নিশিঃ—
তুমি শুধু এটুকুই মনে রাখছো?
আমার চোখ কী বলেছিল—মনে আছে?
অভিকঃ—
বলেছিল… থেকো।
কিন্তু আমি—
আমি জানি না কেন শুনেছিলাম
যেন বলছো—একদিন চলে যেও।
নিশিঃ—
তুমি সব ভুল শোনো।
সবসময়ই।
অভিকঃ—
হয়তো…
…মা’র অপারেশন…
আমি যাইনি, নিশি।
এটা বলার কথা ছিল না…
নিশিঃ—
না, ঠিকই বলেছো।
ওইদিনই বুঝেছিলাম—
তুমি আমাকে নিয়ে লিখতে পারো,
কিন্তু আমার পাশে দাঁড়াতে পারো না।
অভিকঃ—
প্রবন্ধ! প্রবন্ধ!
আমি মানুষটাকে চাইছিলাম, নিশি—
কাগজ না।
নিশিঃ—
তাহলে এতোদিন পর?
এখন কেন লিখতে বসেছো?
অভিকঃ—
কারণ তুমি দূরে।
দূরত্বটা না থাকলে হয়তো লিখতাম না।
নিশিঃ—
আমি আজও নীল শাড়ি পরি, জানো?
যখন তোমাকে খুব মনে পড়ে।
অভিকঃ—
জানালা খোলা রাখো এখনো?
নিশিঃ—
হুম…
বৃষ্টি এলে ভিজে যায় সব।
বন্ধ করতে ইচ্ছে করে না।
অভিকঃ—
তুমি বদলাওনি।
নিশিঃ—
বদলেছি।
শুধু কিছু জিনিস আটকে আছে—
যেমন ওই শুকনো গোলাপটা।
অভিকঃ—
আমার প্রবন্ধটা…
বারবার থেমে যায়।
তোমার কাছে এসে—
কি লিখবো বুঝি না…
নিশিঃ—
থাক। শেষ করতে হবে না।
তোমার মতো—অর্ধেক রেখেই তো ভালো থাকো।
অভিকঃ—
তাহলে একদিন—
সন্ধ্যায়—
ডাকবো তোমাকে।
নিশিঃ—
ডাকবা? সত্যি?
অভিকঃ—
…চেষ্টা করবো।
নিশিঃ—
আলমারিতে নীল শাড়িটা এখনো আছে, অভিক…
তোমার “চেষ্টা” মানেই তো—
আরেকটা অসমাপ্ত প্রবন্ধ, তাই না?
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।