কোন একদিন বৃহস্পতি এলে!
—রফিক আতা—
আজকাল সপ্তাহগুলো কেমন যেন বদলে গেছে। চোখের পলকে বৃহস্পতির আগমন ঘটে বারের চিরচেনা শহরে। কতদিন ভাবি — বৃহস্পতি নিয়ে জমে থাকা হৃদয়ের ক্ষতগুলো তুলে ধরবো! কিন্তু আশ্চর্য — বৃহস্পতি আসে, হাসিমুখে চলে যায়, আর আমি টেরই পাই না তার পদচিহ্নের শব্দ।
বুধবার রাতের নিস্তব্ধতায় সাদা পাতা নিয়ে বসি; কলম হাতে শব্দহীন প্রতীক্ষা। বৃহস্পতির পথ চেয়ে থাকি। অথচ দিন ওঠে, আলো নামে — বৃহস্পতি উপস্থিত! আর আমার মন তখন ঠিক ভুলোমনের যাত্রী — আজ যে বৃহস্পতি, সেটা মনেই থাকে না।
শুক্রের কার্ণিশে ঘুমিয়ে গেলেই বুঝতে পারি — বৃহস্পতি আমার জন্য নয়।
আমার জন্য নয় বৃহস্পতির গদ্যের আবরণ, পদ্যের দোলাচল, গানগুনের মায়া।
আমার জন্য নয় বৃহস্পতির চাদরে ঢেকে নেওয়া কারো হাতের উষ্ণতা…
আমার জন্য নয় বৃহস্পতির বুকে দু’জনার গোপন আশ্রয়।
মাঝে মাঝে ভাবি—ভুলুয়া নদীর ধারে সেই করইগাছের ডালে যদি ঝুলত— “আজ বৃহস্পতি”—এমন একটি প্ল্যাকার্ড, যেন নদীর বাতাসও প্রতিটি শব্দ উড়িয়ে নিয়ে যেত পথিকের কানে।
আর ফজুমিয়ার হাটের চাররাস্তার মোড়ে মাথার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা শূন্য চোখের বিলবোর্ডে বড় বড় অক্ষরে জ্বলত— “আজ বৃহস্পতি”,
যেন রাতের অন্ধকারও হঠাৎ চমকে উঠে আলো জ্বেলে দিত। তাহলে হয়তো বুঝতাম—বৃহস্পতি সত্যিই এসে গেছে। তাহলেই হয়তো বৃহস্পতি বিষাদের প্রকৃত অর্থ অনুভূত হতো।।
তবুও ভাবি —
কোনো এক বৃহস্পতি হয়তো আমার হবে। যেখানে গাছে গাছে প্ল্যাসকার্ড ও রাস্তার মোড়ে বিলবোর্ড লাগোয়া থাকবে বৃহস্পতির পয়গাম নিয়ে।
সে দিন হয়তো শব্দেরা আমার হাত ধরে নৃত্য করবে,
সেদিন হৃদয় আর ভুলে যাবে না —
আজ বৃহস্পতি…
আজ আমার দিন।
বৃহস্পতিলিপি
সাঁতাইশ, এগারো, পঁচিশ
বৃহস্পতিবার।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।