পেশ করছি পরবর্তী পর্ব।
কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া
পর্ব ৫৪: তৃতীয় বিজ্ঞানী
ভিডিওটি শেষ হওয়ার পরও কেউ একটি কথাও বলল না।
ঘরের মধ্যে শুধু কম্পিউটারের ফ্যানের মৃদু শব্দ।
মেহেদী ধীরে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বলল,
"ড. নাদিয়া রহমান..."
"আমরা এতদিন যার নামই জানতাম না।"
---
মারুফ আফসার রহমানের দিকে ঘুরে দাঁড়ালেন।
"আপনি আমাদের এটা বলেননি কেন?"
আফসার রহমান চোখ বন্ধ করলেন।
তার কণ্ঠে ক্লান্তি।
"কারণ..."
"আমি ভেবেছিলাম ও মারা গেছে।"
---
"আপনি নিশ্চিত ছিলেন?"
"না।"
"কিন্তু আগুন লাগার পর..."
"...ওর আর কোনো খোঁজ পাইনি।"
---
মিতু দ্রুত পুরোনো নথিগুলো আবার খুঁজতে শুরু করল।
সে বিস্মিত হয়ে বলল,
"অদ্ভুত!"
মেহেদী তাকাল।
"কী হয়েছে?"
"সরকারি নথিতে আরিফ সালেহ আর আফসার রহমানের নাম আছে।"
"কিন্তু নাদিয়া রহমান নামে একজন গবেষকের কোনো রেকর্ডই নেই।"
---
মেহেদী আস্তে বলল,
"কেউ ইচ্ছা করেই তার অস্তিত্ব মুছে ফেলেছে।"
---
ঠিক তখনই ফরেনসিক বিশ্লেষক রাশেদ ঘরে ঢুকলেন।
তার হাতে একটি প্রিন্টআউট।
"স্যার, হার্ডড্রাইভের মেটাডেটা পরীক্ষা করেছি।"
মারুফ জিজ্ঞেস করলেন,
"কী পেয়েছেন?"
"ফাইলগুলো বহুবার সম্পাদনা করা হয়েছে।"
"শেষবার..."
"...মাত্র তিন দিন আগে।"
---
ঘরের সবাই স্তব্ধ।
মেহেদী ধীরে বলল,
"তাহলে রুদ্র এখনো এই ডেটাবেস ব্যবহার করছে।"
---
রাশেদ আবার বললেন,
"আরও একটি বিষয় আছে।"
"সব ফাইল একই কম্পিউটারে তৈরি হয়নি।"
"শেষ সম্পাদনার জন্য অন্য একটি ডিভাইস ব্যবহার করা হয়েছে।"
---
মিতু দ্রুত বলল,
"ডিভাইসের কোনো পরিচয়?"
রাশেদ মাথা নাড়লেন।
"সরাসরি নয়।"
"তবে একটি লোকেশন ট্যাগ আংশিকভাবে মুছে ফেললেও পুরোপুরি মুছতে পারেনি।"
সে কাগজটি মেহেদীর হাতে দিল।
তাতে লেখা...
NRI-04
---
সৌরভ বলল,
"এটা আবার কী?"
মেহেদী কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
"এটা কোনো ঠিকানা নয়।"
"সম্ভবত..."
"...একটি ভবনের কোড।"
---
ঠিক তখনই আফসার রহমানের চোখ বড় হয়ে গেল।
"NRI..."
"আমি মনে করতে পারছি!"
সবাই তার দিকে তাকাল।
"National Research Institute."
"PROJECT MIRROR বন্ধ হওয়ার পর গবেষণার কিছু যন্ত্রপাতি সেখানে পাঠানো হয়েছিল।"
---
মারুফ সঙ্গে সঙ্গে বললেন,
"ওই প্রতিষ্ঠান কি এখনো চালু আছে?"
আফসার ধীরে মাথা নাড়লেন।
"হ্যাঁ।"
"তবে..."
"NRI-04 ছিল মূল ভবন নয়।"
"ওটা ছিল ভূগর্ভস্থ পরীক্ষাগারের কোড।"
---
মেহেদীর চোখে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ফুটে উঠল।
"তাহলে নাদিয়া হয়তো সেখানেই কাজ চালিয়ে গিয়েছিল।"
---
ঠিক সেই সময় থানার ডিউটি অফিসার দৌড়ে এল।
"স্যার!"
"একজন মহিলা আপনাকে দেখতে এসেছেন।"
মারুফ বললেন,
"নাম?"
"তিনি নাম বলতে চাননি।"
"শুধু বলেছেন..."
"...তিনি PROJECT MIRROR সম্পর্কে জানেন।"
---
মেহেদী দ্রুত নিচে নেমে এল।
অপেক্ষা কক্ষে একটি মধ্যবয়স্ক নারী বসে আছেন।
সাধারণ শাড়ি।
চোখে ক্লান্তি।
কিন্তু মুখে অদ্ভুত স্থিরতা।
মেহেদী সামনে বসতেই তিনি বললেন,
"আপনি গোয়েন্দা মেহেদী?"
"জি।"
"আমি বেশি সময় থাকতে পারব না।"
তিনি ব্যাগ থেকে একটি পুরোনো ছবি বের করলেন।
ছবিতে তিনজন মানুষ।
ড. আরিফ সালেহ।
আফসার রহমান।
আর সেই একই নারী...
ড. নাদিয়া রহমান।
কিন্তু ছবির পেছনে হাতে লেখা একটি বাক্য।
«"আমরা তিনজন নই। আমরা চারজন ছিলাম।"»
মেহেদীর বুকের ভেতর ধাক্কা লাগল।
"চারজন?"
মহিলা ধীরে মাথা নাড়লেন।
"হ্যাঁ।"
"চতুর্থ ব্যক্তির নাম কখনো কোনো নথিতে লেখা হয়নি।"
"কারণ..."
"...তিনি কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের সদস্যই ছিলেন না।"
মেহেদী প্রশ্ন করল,
"তিনি কে?"
মহিলা উত্তর দেওয়ার আগেই...
বাইরে প্রচণ্ড শব্দে একটি মোটরসাইকেল ছুটে গেল।
জানালার কাচ ভেঙে একটি ছোট ধাতব ক্যাপসুল ঘরের ভেতর পড়ল।
সবাই মাটিতে ঝাঁপিয়ে পড়ল।
ক্যাপসুলটি বিস্ফোরিত হলো না।
বরং সেখান থেকে ধীরে ধীরে একটি কাগজ বেরিয়ে এল।
কাগজে মাত্র একটি লাইন লেখা।
«"তুমি যত সত্যের কাছে পৌঁছাচ্ছ, তত কম সময় তোমার হাতে আছে।"»
কাগজের নিচে একটি নতুন চিহ্ন।
দাবার রাজা গুটি।
এতদিন রুদ্র প্রতিটি বার্তায় ঘোড়া ব্যবহার করেছে।
কিন্তু এবার...
প্রথমবারের মতো রাজা।
মেহেদী কাগজটির দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,
"খেলা বদলে গেছে..."
"এবার বোর্ডে নতুন খেলোয়াড় নেমেছে।"
চলবে...
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।