পেশ করছি পরবর্তী পর্ব।
কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া
পর্ব ৫১: রুদ্রের স্বীকারোক্তি
টেলিফোনের লাইন কেটে গেছে।
কিন্তু কেউ রিসিভার নামাল না।
মেহেদী স্থির দৃষ্টিতে ফোনটির দিকে তাকিয়ে রইল।
ঘরের বাতাস যেন আরও ভারী হয়ে উঠেছে।
---
সৌরভ ফিসফিস করে বলল,
"তাহলে..."
"অঘোরী রুদ্রই Subject-19?"
মেহেদী ধীরে উত্তর দিল,
"এখন পর্যন্ত আমরা শুধু তার নিজের দাবি শুনেছি।"
"এটা সত্যিও হতে পারে, আবার আমাদের বিভ্রান্ত করার কৌশলও হতে পারে।"
---
আফসার রহমান চুপচাপ বসে ছিলেন।
হঠাৎ তিনি বললেন,
"না..."
"সে মিথ্যা বলেনি।"
সবাই একসঙ্গে তার দিকে তাকাল।
---
"Subject-19-ই আজকের অঘোরী রুদ্র।"
"কিন্তু..."
"সে জন্মগত অপরাধী ছিল না।"
---
মেহেদী এগিয়ে এসে বলল,
"সবকিছু শুরু থেকে বলুন।"
---
আফসার রহমান দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
"Subject-19 ছিল অসাধারণ মেধাবী।"
"কোনো মানুষের কথা, হাঁটা, কণ্ঠস্বর, এমনকি অভ্যাসও খুব অল্প সময়ে অনুকরণ করতে পারত।"
"প্রথমে আমরা এটাকে বিরল মানসিক দক্ষতা ভেবেছিলাম।"
"পরে বুঝলাম..."
"...সে শুধু অনুকরণ করে না।"
"সে মানুষের দুর্বলতাও পড়তে পারে।"
---
মিতু জিজ্ঞেস করল,
"অর্থাৎ সে খুব দক্ষ পর্যবেক্ষক ছিল?"
"হ্যাঁ।"
"কিন্তু তার সবচেয়ে বিপজ্জনক ক্ষমতা ছিল..."
"মানুষকে নিজের ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা।"
---
মারুফ ভ্রু কুঁচকে বললেন,
"সম্মোহন?"
আফসার মাথা নাড়লেন।
"না।"
"সম্মোহন নয়।"
"সে মানুষের ভয়, অহংকার, লোভ আর অপরাধবোধকে কাজে লাগাত।"
---
মেহেদী আস্তে বলল,
"তাহলে তার সবচেয়ে বড় অস্ত্র ছিল..."
"মনোবিজ্ঞান।"
---
ঠিক তখনই ঘরের একটি পুরোনো প্রজেক্টর নিজে থেকেই চালু হয়ে গেল।
দেয়ালে একটি ভিডিও ভেসে উঠল।
এবার মুখোশধারী নয়।
একজন কিশোর।
বয়স চৌদ্দ কিংবা পনেরো।
সে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলছে,
"আজ তারা আবার আমাকে পরীক্ষা করবে।"
"তারা ভাবে আমি বুঝি না।"
"আসলে..."
"আমি ওদের সবাইকে বুঝে ফেলেছি।"
---
ভিডিওর নিচে তারিখ।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭।
---
আফসার রহমান কাঁপা গলায় বললেন,
"এটাই ছিল Subject-19-এর শেষ রেকর্ড করা ভিডিও।"
---
ভিডিওতে কিশোরটি আবার বলল,
"তারা আমাকে পর্যবেক্ষণ করছে।"
"কিন্তু তারা জানে না..."
"...আমিও তাদের পর্যবেক্ষণ করছি।"
তারপর সে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে হাসল।
সেই হাসি অস্বাভাবিকভাবে শান্ত।
---
হঠাৎ ভিডিও থেমে গেল।
স্ক্রিনে নতুন একটি লেখা ভেসে উঠল।
«"যদি এই ভিডিও দেখে থাকো, মেহেদী... তাহলে তুমি আমার পরিকল্পনার অর্ধেক সম্পন্ন করে ফেলেছ।"»
---
মারুফ বিস্মিত।
"সে কীভাবে জানল?"
মেহেদী কোনো উত্তর দিল না।
---
ঠিক তখনই মিতু ভিডিওর এক কোণে কিছু লক্ষ্য করল।
"একটু থামাও!"
ভিডিও স্থির করা হলো।
জুম করা হলো।
পেছনের দেয়ালে ঝুলছে একটি ক্যালেন্ডার।
কিন্তু তারিখের ওপর লাল কালি দিয়ে একটি সংখ্যা লেখা।
৫২।
---
সৌরভ বলল,
"এবার আবার নতুন সংখ্যা!"
---
মেহেদী কয়েক সেকেন্ড চিন্তা করল।
তারপর বলল,
"না..."
"এটা কোনো কোড নয়।"
"এটা কাউন্টডাউন।"
---
আফসার রহমান অবাক হয়ে তাকালেন।
"কাউন্টডাউন?"
---
"হ্যাঁ।"
"এই ভিডিও যখন রেকর্ড করা হয়..."
"...তখন কোনো ঘটনার আর ৫২ দিন বাকি ছিল।"
---
মিতু দ্রুত পুরোনো নথি মিলিয়ে দেখতে লাগল।
কয়েক মিনিট পর সে মাথা তুলে বলল,
"ঠিক বলেছ!"
"ভিডিওর ৫২ দিন পর..."
"...ড. আরিফ সালেহ নিখোঁজ হন।"
---
ঘরের সবাই স্তব্ধ।
এর মানে...
Subject-19 অনেক আগে থেকেই নিজের পরিকল্পনা শুরু করেছিল।
---
ঠিক তখনই পুরো ভবনের বিদ্যুৎ আবার একবার কেঁপে উঠল।
লাল জরুরি আলো নিভে গিয়ে আবার জ্বলে উঠল।
কিন্তু এবার একটি নতুন জিনিস দেখা গেল।
ঘরের বিপরীত দেয়ালে কালো রঙে লেখা রয়েছে...
«"তোমরা এখনও ভুল প্রশ্ন করছ।"»
তার নিচে আরেকটি লাইন।
«"কে রুদ্র, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।"»
«"কেন রুদ্র তৈরি হলো, সেটাই আসল প্রশ্ন।"»
মেহেদী লেখাটার দিকে তাকিয়ে খুব আস্তে বলল,
"হ্যাঁ..."
"সম্ভবত এটাই পুরো রহস্যের কেন্দ্রবিন্দু।"
কারণ কখনও কখনও...
একজন অপরাধীকে ধরার চেয়ে,
তার জন্মের কারণ খুঁজে বের করাটাই আরও জরুরি।
ঠিক সেই মুহূর্তে ভবনের নিচতলা থেকে ভেসে এল একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ।
ধুম!
মেঝে কেঁপে উঠল।
ধুলা ঝরে পড়তে লাগল।
শাহীনুর দৌড়ে এসে চিৎকার করে বলল,
"স্যার!"
"নিচের গোপন আর্কাইভে আগুন লেগেছে!"
আর সেই আগুনে পুড়ে যাচ্ছে...
PROJECT MIRROR-এর বহু বছরের গোপন নথি।
চলবে...
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।