কেস ৩: অভিশপ্ত বৃত্ত
পর্ব ১৪: LAB-7
বৃদ্ধ লোকটির নিথর দেহ মেঝেতে পড়ে আছে।
মারুফ দ্রুত বাইরে ছুটে গেলেন।
"চারদিক ঘিরে ফেলো!"
পুলিশের কয়েকজন সদস্য মোটরসাইকেলটির পিছু নিল, কিন্তু পাঁচ মিনিট পর ওয়্যারলেসে উত্তর এল।
"স্যার... লোকটা হাইওয়ের দিকে চলে গেছে। নম্বরপ্লেট ছিল না।"
মারুফ দাঁত চেপে বললেন,
"আবারও হাতছাড়া..."
---
ভেতরে মেহেদী বৃদ্ধের শরীর পরীক্ষা করছিল।
সে ভ্রু কুঁচকে গেল।
মিতু জিজ্ঞেস করল,
"কী হয়েছে?"
"গুলিটা..."
"...অস্বাভাবিক।"
"কেন?"
"সাধারণ স্নাইপার রাইফেলের গুলি হলে শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যাওয়ার কথা।"
"কিন্তু এখানে প্রবেশের ক্ষত আছে..."
"...বের হওয়ার নেই।"
মিতু সাবধানে এক্স-রে স্ক্যানার দিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা করল।
কিছুক্ষণ পরে সে বলল,
"গুলিটা ভেতরেই আছে।"
---
মেহেদী বলল,
"ফরেনসিকে পাঠানোর আগে এটা বের করা যাবে না।"
মারুফ ফিরে এসে মাথা নাড়লেন।
"ঠিক আছে।"
---
ঠিক তখনই মেহেদীর চোখ পড়ল বৃদ্ধের ডান হাতে।
মুঠো শক্ত করে বন্ধ।
সে ধীরে ধীরে আঙুলগুলো খুলতেই একটি ছোট কাগজ বেরিয়ে এল।
রক্তে ভিজে গেছে।
তবু লেখা পড়া যাচ্ছে।
> LAB-7 = M
সৌরভ অবাক হয়ে বলল,
"মানে?"
মেহেদী কাগজটা উল্টে দেখল।
পেছনে আরেকটি লাইন।
> "মানুষকে খুঁজো। ভবনকে নয়।"
---
মারুফ ধীরে বললেন,
"তাহলে বৃদ্ধ সত্যিই ঠিক বলছিলেন।"
"LAB-7 একজন মানুষের কোডনেম।"
মেহেদী মাথা নাড়ল।
"হ্যাঁ।"
"কিন্তু M কে?"
---
মিতু তখন ফরেনসিক ব্যাগ গোছাতে গিয়ে বৃদ্ধের কোটের ভেতরের পকেটে একটি ছোট ডায়েরি পেল।
ডায়েরিটা খুব পুরোনো।
প্রথম পাতায় লেখা,
রফিকুল ইসলাম
তার নিচে...
কেয়ারটেকার, গবেষণা ইউনিট-৭
---
মেহেদী দ্রুত শেষের দিকের পাতাগুলো উল্টাতে লাগল।
বেশিরভাগ লেখা অস্পষ্ট।
কিন্তু একটি পৃষ্ঠা প্রায় অক্ষত।
সেখানে লেখা ছিল,
> "ড. আরিফ সব সময় বলতেন, গবেষণা মানুষের জন্য।"
> "কিন্তু মাহির সাহেব বলতেন, ভুল মানুষের হাতে পড়লে গবেষণাই সবচেয়ে ভয়ংকর অস্ত্র।"
> "তাদের তর্কের মাঝখানে সব সময় দাঁড়িয়ে থাকতেন একজন।"
নিচে শুধু একটি অক্ষর।
M
---
হঠাৎ সৌরভ বলল,
"আমরা কি ধরে নিচ্ছি M মানেই LAB-7?"
মেহেদী সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিল,
"না।"
"ধারণা আর প্রমাণ এক জিনিস না।"
"কিন্তু সূত্রগুলো একই দিকে যাচ্ছে।"
---
ঠিক তখনই মিতুর ফোনে ফরেনসিক ল্যাব থেকে রিপোর্ট এল।
সে রিপোর্ট পড়ে অবাক হয়ে গেল।
"মেহেদী..."
"কী?"
"বৃদ্ধকে যে গুলি করা হয়েছে..."
"...এটা সাধারণ সীসার গুলি না।"
"তাহলে?"
"তামা আর টাংস্টেনের বিশেষ সংকর ধাতু।"
মারুফ বললেন,
"এতে কী বোঝা যায়?"
মিতু উত্তর দিল,
"এ ধরনের গুলি খুব নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে তৈরি হয়। বাজারে সহজে পাওয়া যায় না।"
---
মেহেদী কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।
তারপর গবেষণাকক্ষের দেয়ালে টাঙানো পুরোনো মানচিত্রের সামনে গিয়ে দাঁড়াল।
এবার তার চোখে পড়ল এমন একটি বিষয়, যা এতক্ষণ কেউ খেয়াল করেনি।
মানচিত্রে বারোটি লাল বিন্দু।
কিন্তু তাদের মাঝখানে...
একটি কালো বিন্দু।
কালো বিন্দুর পাশে লেখা।
M
---
সে ধীরে আঙুল রাখল সেই বিন্দুর ওপর।
"এটাই কেন্দ্র।"
সৌরভ জিজ্ঞেস করল,
"কিসের কেন্দ্র?"
"সব কিছুর।"
"ASTER..."
"NEXUS..."
"সব গবেষণার।"
---
ঠিক তখনই গবেষণাকক্ষের পুরোনো টেলিফোনটা বেজে উঠল।
ঘরের সবাই চমকে উঠল।
এই লাইন বহু বছর ধরে বিচ্ছিন্ন থাকার কথা।
মারুফ ধীরে রিসিভার তুললেন।
কোনো শব্দ নেই।
শুধু হালকা শ্বাস নেওয়ার আওয়াজ।
তারপর একজন শান্ত গলায় বলল,
"মারুফ..."
মারুফের মুখের রঙ বদলে গেল।
"কে?"
ওপাশ থেকে উত্তর এল,
"...অনেক বছর পরও তুমি আমার কণ্ঠ চিনতে পারোনি?"
মারুফের হাত কাঁপতে শুরু করল।
"অসম্ভব..."
মেহেদী উদ্বিগ্ন হয়ে তাকাল।
"আংকেল?"
মারুফ ফিসফিস করে বললেন,
"...এটা..."
"...এটা আমার ভাই মাহিরের কণ্ঠ।"
ওপাশের মানুষটি ধীরে বলল,
"যদি সত্যিই আমাকে খুঁজতে চাও..."
"...তাহলে M-কে খুঁজো না।"
"...কারণ..."
"...M আমিই।"
লাইন কেটে গেল।
ঘরের সবাই নিঃশব্দ।
মেহেদীর চোখে তখন একসঙ্গে দুইটি প্রশ্ন।
মাহির রহমান কি এত বছর বেঁচে ছিলেন?
নাকি কেউ তাঁর কণ্ঠ ব্যবহার করে তাদের আরও বড় এক বিভ্রমের দিকে ঠেলে দিচ্ছে?
চলবে...
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।