পেশ করছি পরবর্তী পর্ব।
কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া
পর্ব ৬৫: কাঁচের শিশি
থানার ফরেনসিক ল্যাবে কাঁচের শিশিটি একটি সুরক্ষিত কাচের বাক্সে রাখা হয়েছে।
ঘরের বাইরে সশস্ত্র পুলিশ।
ভেতরে মেহেদী, মিতু, মারুফ এবং রাশেদ।
কেউ শিশিটিকে স্পর্শ করছে না।
---
মারুফ বললেন,
"কামরান নিজেই বলেছে এটা বিষ নয়।"
মেহেদী শান্ত গলায় উত্তর দিল,
"সে আরও বলেছে, এটা তার চেয়েও বিপজ্জনক।"
"তাই ওর কথাও পুরোপুরি বিশ্বাস করা যাবে না, আবার উপেক্ষাও করা যাবে না।"
---
মিতু দূর থেকে স্পেকট্রোস্কোপ দিয়ে শিশিটির ভেতরের তরল পরীক্ষা করতে শুরু করল।
কয়েক মিনিট পর তার মুখে বিস্ময়ের ছাপ ফুটে উঠল।
"অদ্ভুত!"
---
রাশেদ জিজ্ঞেস করল,
"কী হয়েছে?"
---
"তরলটি কোনো পরিচিত বিষের সঙ্গে মিলছে না।"
"কোনো বিস্ফোরক রাসায়নিকও নয়।"
"এমনকি..."
"...এটা প্রায় বিশুদ্ধ লবণাক্ত পানির মতো আচরণ করছে।"
---
সৌরভ হেসে বলল,
"তাহলে এত নাটক কেন?"
---
মেহেদী সঙ্গে সঙ্গে বলল,
"কারণ কামরান নাটক করে না।"
"সে মানুষের ধারণা নিয়ে খেলে।"
---
ঠিক তখনই মিতু আরেকটি পরীক্ষা চালাল।
এবার অতিবেগুনি আলো ফেলা হলো শিশিটির ওপর।
কয়েক সেকেন্ড কিছুই দেখা গেল না।
তারপর...
কাঁচের গায়ে অদৃশ্য কালি দিয়ে লেখা একটি বাক্য ফুটে উঠল।
«'শিশির ভেতরে নয়। শিশিটাই গুরুত্বপূর্ণ।'»
---
ঘরের সবাই স্তব্ধ।
---
মেহেদী ধীরে বলল,
"আমরা আবারও একই ভুল করেছি।"
"আমরা ভেতরের জিনিস নিয়ে ভাবছিলাম।"
"কিন্তু আসল রহস্য পাত্রে।"
---
রাশেদ বিশেষ স্ক্যানার দিয়ে কাঁচটি পরীক্ষা করল।
স্ক্রিনে একটি ত্রিমাত্রিক নকশা ভেসে উঠল।
শিশির কাঁচের ভেতরে অসংখ্য সূক্ষ্ম রেখা।
প্রথমে এলোমেলো মনে হলেও...
কিছুক্ষণ পর মিতু বলল,
"এগুলো এলোমেলো নয়।"
"এটা একটি মাইক্রো-খোদাই করা মানচিত্র!"
---
মেহেদী বিস্মিত হয়ে তাকাল।
"কোন জায়গার?"
---
মিতু কম্পিউটারে মানচিত্রটি বড় করে শহরের মানচিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখল।
দশ মিনিট পর সে ধীরে বলল,
"এটা পুরো শহরের নয়।"
"এটা একটি ভবনের নকশা।"
---
"কোন ভবন?"
---
স্ক্রিনে ভবনের বাইরের ছবি ভেসে উঠল।
মারুফ অবাক হয়ে উঠলেন।
"এটা তো..."
---
জাতীয় আর্কাইভ ভবন।
---
মেহেদীর চোখ সরু হয়ে এল।
"কামরান টাইটেনিয়ামের কন্টেইনার নিয়ে গেছে।"
"আর আমাদের হাতে রেখে গেছে..."
"...পরবর্তী গন্তব্যের মানচিত্র।"
---
ঠিক তখনই জাতীয় আর্কাইভ ভবনের পরিচালক ফোন করলেন।
তার কণ্ঠ কাঁপছে।
"গোয়েন্দা মেহেদী?"
"জি।"
"আজ সকালে একজন গবেষক পরিচয়ে একজন লোক আমাদের কাছে এসেছিল।"
---
"তারপর?"
---
"সে শত বছর আগের কিছু সরকারি নথি দেখতে চেয়েছিল।"
"সব নিয়ম মেনেই তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।"
---
মেহেদী জিজ্ঞেস করল,
"লোকটা এখন কোথায়?"
---
পরিচালক কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বললেন,
"সেটাই সমস্যা।"
"সিসিটিভিতে তাকে ভবনে ঢুকতে দেখা গেছে।"
"কিন্তু..."
"...কোথাও বের হতে দেখা যায়নি।"
---
ঘরে নীরবতা নেমে এল।
মেহেদী ধীরে শিশিটির দিকে তাকাল।
তারপর বলল,
"সে ভবন থেকে বের হয়নি।"
---
মারুফ অবাক হয়ে বললেন,
"তাহলে?"
---
মেহেদী দৃঢ় কণ্ঠে উত্তর দিল,
"তার মানে..."
"জাতীয় আর্কাইভ ভবনের ভেতরেই এমন একটি জায়গা আছে..."
"...যেটা ভবনের সরকারি নকশায় নেই।"
সে কাঁচের শিশিটি আবার আলোয় ধরল।
মাইক্রো-খোদাই করা মানচিত্রে একটি ছোট লাল বিন্দু দেখা যাচ্ছে।
সেই বিন্দুর পাশে মাত্র দুটি অক্ষর।
A-0
মেহেদী খুব আস্তে বলল,
"R-9-এর পর..."
"এবার A-0।"
"কামরান আমাদের আরেকটি গোপন দরজার সামনে নিয়ে এসেছে।"
চলবে...
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।