পেশ করছি পরবর্তী পর্ব।
কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া
পর্ব ৬৯: হারিয়ে যাওয়া শৈশব
ঘরের সবাই নিশ্চুপ।
মেহেদীর হাত এখনও তার গলার লকেটটি শক্ত করে ধরে আছে।
ছবির লকেট আর তার নিজের লকেট...
দুটোর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
---
মারুফ ধীরে বললেন,
"মেহেদী..."
"তুমি ঠিক আছ?"
---
সে কোনো উত্তর দিল না।
বরং ছবির পেছনের তারিখটির দিকে তাকিয়ে রইল।
১২ জুন, ২০০৬
সে হিসাব করল।
ঠিক সেই সময়ের আগের কোনো স্মৃতি তার স্পষ্ট মনে নেই।
শৈশবের অনেক ঘটনা যেন কুয়াশায় ঢাকা।
---
মিতু নরম গলায় বলল,
"স্মৃতির ফাঁকগুলো..."
"হয়তো দুর্ঘটনা নয়।"
---
মেহেদী আস্তে বলল,
"আমি সব সময় ভেবেছিলাম ছোটবেলায় মাথায় আঘাত পেয়েছিলাম।"
"এখন মনে হচ্ছে..."
"...আমাকে সেই গল্পটাই বিশ্বাস করানো হয়েছিল।"
---
ঠিক তখনই রাশেদ লকেটটি স্ক্যান করল।
কয়েক সেকেন্ড পর স্ক্রিনে একটি অস্বাভাবিক ফলাফল এল।
"স্যার..."
"লকেটটা ফাঁপা।"
---
মেহেদী অবাক হয়ে বলল,
"অসম্ভব।"
"আমি এটা কখনো খোলার চেষ্টা করিনি।"
---
বিশেষ যন্ত্র দিয়ে লকেটটি সাবধানে খোলা হলো।
ভেতরে একটি ভাঁজ করা অতি ক্ষুদ্র কাগজ।
বছরের পর বছর ধরে ভেতরে লুকিয়ে ছিল।
---
মিতু কাগজটি খুলতেই সবার চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল।
সেখানে মাত্র একটি বাক্য।
«"যদি তুমি এটা পড়তে পারো, তাহলে তারা তোমার স্মৃতি মুছে ফেলতে পারেনি।"»
নিচে একটি স্বাক্ষর।
— নাদিয়া
---
ঘরে নীরবতা।
---
মেহেদীর কণ্ঠ কেঁপে উঠল।
"তিনি..."
"তিনি জানতেন একদিন আমি এটা খুঁজে পাব।"
---
মারুফ বললেন,
"আরও কিছু আছে?"
---
কাগজটির অন্য পাশে একটি হাতে আঁকা ছবি।
একটি গাছ।
তার পাশে একটি ছোট্ট বাড়ি।
আর নিচে লেখা দুটি শব্দ।
'নীল দরজা'
---
সৌরভ বলল,
"এটা কি কোনো গ্রামের বাড়ি?"
---
মেহেদী মাথা নাড়ল।
"না..."
"আমি এই ছবিটা আগে দেখেছি।"
---
সবাই একসঙ্গে তার দিকে তাকাল।
---
"স্বপ্নে।"
"বহু বছর ধরে একই স্বপ্ন দেখি।"
"একটি বড় গাছ..."
"একটি ছোট বাড়ি..."
"আর নীল রঙের দরজা।"
---
মিতু ধীরে বলল,
"তোমার অবচেতন মনে হয়তো সেই স্মৃতির কিছু অংশ রয়ে গেছে।"
---
ঠিক তখনই থানার পুরোনো রেকর্ড বিভাগ থেকে ফোন এল।
"স্যার, আপনি যে ২০০৬ সালের নিখোঁজ শিশুদের তালিকা চেয়েছিলেন..."
"...একটি মিল পাওয়া গেছে।"
---
মেহেদীর বুক ধক করে উঠল।
"কী মিল?"
---
"২০০৬ সালের জুন মাসে একটি শিশুকে অজ্ঞাত পরিচয়ে উদ্ধার করা হয়েছিল।"
"তার নাম জানা যায়নি।"
"পরে..."
"...তাকে নতুন পরিচয় দেওয়া হয়।"
---
মারুফ ধীরে জিজ্ঞেস করলেন,
"সেই নতুন পরিচয়টা কী ছিল?"
---
ওপাশ থেকে উত্তর এল।
"মেহেদী।"
---
ঘরের বাতাস যেন থেমে গেল।
মেহেদী ধীরে চোখ বন্ধ করল।
অর্থাৎ...
তার বর্তমান পরিচয়ও হয়তো জন্মের পরিচয় নয়।
ঠিক সেই মুহূর্তে তার ফোনে একটি ভিডিও এসে পৌঁছাল।
প্রেরক...
কামরান।
ভিডিও চালু হতেই কামরান শান্ত গলায় বলল,
«"অভিনন্দন, মেহেদী।"»
«"তুমি অবশেষে নিজের গল্পের প্রথম পাতায় পৌঁছেছ।"»
সে কয়েক সেকেন্ড থামল।
তারপর বলল,
«"এবার সিদ্ধান্ত নাও..."»
«"তুমি কি আমাকে ধরতে চাও?"»
«"নাকি জানতে চাও..."»
«"তুমি আসলে কে?"»
ভিডিও শেষ হয়ে গেল।
মেহেদী বুঝতে পারল, জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত এখন তার সামনে।
একদিকে একজন বিপজ্জনক অপরাধীকে থামানোর দায়িত্ব।
অন্যদিকে...
নিজের হারিয়ে যাওয়া পরিচয়ের সন্ধান।
দুটি পথ।
কিন্তু সময় আছে মাত্র একটিই।
চলবে...
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।