পেশ করছি পরবর্তী পর্ব।
কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া
পর্ব ৫৮: ল্যাব R-9
ঘড়িতে সকাল ৯টা ৪২।
পুলিশের দুটি গাড়ি নীরবে শহরের উপকণ্ঠের দিকে ছুটে চলছে।
গন্তব্য...
Research Wing-9।
মেহেদী জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে।
তার মনে একটাই প্রশ্ন।
এতদিন ধরে যে মানুষটিকে তারা খুঁজছে, সে কি সত্যিই এখানেই আছে?
---
গাড়ি একটি পরিত্যক্ত শিল্প এলাকার সামনে এসে থামল।
চারদিকে মরিচা ধরা কারখানা।
ভাঙা চিমনি।
আগাছায় ঢাকা রাস্তা।
প্রথম দেখায় কোথাও কোনো গবেষণাগারের চিহ্ন নেই।
---
সৌরভ বিরক্ত হয়ে বলল,
"এখানে ল্যাব থাকার কথা?"
মিতু ট্যাবলেটের জিপিএস দেখে বলল,
"লোকেশন ঠিক আছে।"
---
মেহেদী চারদিকে তাকিয়ে রইল।
হঠাৎ তার চোখ পড়ল একটি পুরোনো বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনের ওপর।
দরজায় মরিচা পড়লেও তালাটি একেবারে নতুন।
সে মৃদু হেসে বলল,
"পরিত্যক্ত ভবনে নতুন তালা?"
"এর মানে..."
"...কেউ নিয়মিত এখানে আসে।"
---
মারুফ ইশারা করতেই দুই কনস্টেবল দরজাটি খুলে দিল।
ভেতরে ছোট্ট একটি কক্ষ।
কিন্তু কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র নেই।
শুধু মেঝেতে একটি ভারী লোহার প্ল্যাটফর্ম।
---
মিতু নিচু হয়ে পরীক্ষা করল।
"মেঝের নিচে ফাঁপা জায়গা আছে।"
---
মেহেদী প্ল্যাটফর্মের পাশে একটি লুকানো সুইচ দেখতে পেল।
সুইচ চাপতেই...
ঘররর...
প্ল্যাটফর্মটি ধীরে ধীরে নিচে নামতে শুরু করল।
একটি গোপন লিফট।
---
এক মিনিট পর তারা ভূগর্ভে পৌঁছাল।
সামনে দীর্ঘ করিডোর।
সাদা দেয়াল।
উজ্জ্বল আলো।
এত পরিষ্কার যে বোঝাই যায়, জায়গাটি এখনো ব্যবহৃত হচ্ছে।
---
দেয়ালের ওপর বড় অক্ষরে লেখা।
R-9
তার নিচে আরেকটি বাক্য।
«"Observe everything. Believe nothing."»
মেহেদী বাক্যটি পড়ে থেমে গেল।
"সবকিছু পর্যবেক্ষণ করো।"
"কিন্তু কোনো কিছুই অন্ধভাবে বিশ্বাস করো না।"
---
হঠাৎ করিডোরের স্পিকারে একটি নারীকণ্ঠ ভেসে এল।
শান্ত।
স্পষ্ট।
"স্বাগতম, গোয়েন্দা মেহেদী।"
"আমি জানতাম আপনি আসবেন।"
---
মারুফ চিৎকার করলেন,
"নিজেকে দেখান!"
নারীকণ্ঠ হালকা হেসে বলল,
"আপনারা এতদিন একজন মানুষকে খুঁজছিলেন।"
"আজ একটি ধারণাকে খুঁজছেন।"
---
মেহেদী শান্ত গলায় বলল,
"ড. নাদিয়া রহমান?"
কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।
তারপর উত্তর এল।
"অনেক বছর পর..."
"...কেউ আবার এই নামটি উচ্চারণ করল।"
---
করিডোরের শেষ প্রান্তে একটি কাঁচের দরজা খুলে গেল।
ভেতরে গোলাকার একটি গবেষণাগার।
মাঝখানে একটি বড় ডিজিটাল স্ক্রিন।
কিন্তু সেখানে কোনো মানুষ নেই।
---
স্ক্রিনটি নিজে থেকেই জ্বলে উঠল।
ড. নাদিয়া রহমানের মুখ ভেসে উঠল।
তিনি সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে বললেন,
"তোমরা আমাকে খুঁজতে এসেছ।"
"কিন্তু আমি এখানে নেই।"
---
মিতু হতাশ হয়ে বলল,
"আবার রেকর্ড করা ভিডিও!"
---
নাদিয়া যেন কথাটি শুনতেই পেলেন।
তিনি বললেন,
"তুমি ভাবছ এটা ভিডিও।"
"না।"
"আমি এখনই তোমাদের সঙ্গে কথা বলছি।"
---
মেহেদীর চোখ সরু হয়ে এল।
সে দ্রুত চারদিকে তাকাল।
ঘরের এক কোণে ছোট একটি ক্যামেরা নড়ল।
"লাইভ সংযোগ..."
সে আস্তে বলল।
---
নাদিয়া মাথা নাড়লেন।
"ঠিক ধরেছ।"
"এবার বুঝতে পারছ, কেন তোমাকে Subject-17 বলা হতো?"
"কারণ তুমি প্রশ্ন করতে শেখো।"
---
মেহেদী সরাসরি প্রশ্ন করল,
"অঘোরী রুদ্র কোথায়?"
নাদিয়ার মুখে প্রথমবারের মতো বিষণ্নতা ফুটে উঠল।
তিনি ধীরে বললেন,
"তোমরা এখনও ভাবছ..."
"...রুদ্রই সবচেয়ে বিপজ্জনক মানুষ।"
"না।"
"সে শুধু একটি ফলাফল।"
---
"তাহলে মূল কারণ কে?"
নাদিয়া উত্তর দিলেন,
"যে মানুষ মানুষের মনকে অস্ত্র বানাতে চেয়েছিল..."
"...সে এখনো বেঁচে আছে।"
---
ঠিক তখনই গবেষণাগারের সব আলো নিভে গেল।
কয়েক সেকেন্ড পর জরুরি আলো জ্বলে উঠল।
স্ক্রিনে নাদিয়া আর নেই।
তার বদলে একটি কাউন্টডাউন শুরু হয়েছে।
00:04:59
00:04:58
00:04:57
---
সৌরভ চিৎকার করে উঠল,
"এটা কী?"
নাদিয়ার কণ্ঠ শেষবারের মতো শোনা গেল।
«"যদি আমাকে বিশ্বাস করো, তাহলে এখনই বেরিয়ে যাও।"»
«"আর যদি সত্য জানতে চাও..."»
«"...তাহলে পাঁচ মিনিট এখানেই থাকো।"»
লাইন কেটে গেল।
ঘরের ভেতর আবার নীরবতা।
মেহেদী কাউন্টডাউনের দিকে তাকিয়ে রইল।
এবার প্রথমবারের মতো...
সত্য আর নিরাপত্তার মধ্যে তাকে একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
চলবে...
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।