পেশ করছি পরবর্তী পর্ব।
কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া
পর্ব ৫৯: পাঁচ মিনিটের সিদ্ধান্ত
ডিজিটাল স্ক্রিনে কাউন্টডাউন দ্রুত কমছে।
00:04:41
00:04:40
ঘরের কেউ কথা বলছে না।
শুধু যন্ত্রের মৃদু গুঞ্জন।
---
মারুফ দৃঢ় কণ্ঠে বললেন,
"সবাই এখনই বের হয়ে যাও!"
"এটা ফাঁদও হতে পারে।"
---
সৌরভও মাথা নাড়ল।
"আমি স্যারের সঙ্গে একমত।"
"কোনো প্রমাণের জন্য নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা ঠিক হবে না।"
---
কিন্তু মেহেদী নড়ল না।
সে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়েই বলল,
"একটা বিষয় খেয়াল করেছ?"
---
মিতু জিজ্ঞেস করল,
"কী?"
---
"কাউন্টডাউন শুরু হয়েছে।"
"কিন্তু কোথাও লেখা নেই..."
"...কিসের কাউন্টডাউন।"
---
সবাই থেমে গেল।
মারুফও নতুন করে স্ক্রিনের দিকে তাকালেন।
সত্যিই...
শুধু সময় কমছে।
কিন্তু বিস্ফোরণ, গ্যাস, লকডাউন বা অন্য কোনো সতর্কবার্তা নেই।
---
মেহেদী শান্ত গলায় বলল,
"রুদ্র সব সময় মানুষের ভয়কে ব্যবহার করেছে।"
"আমরা নিজেরাই ধরে নিয়েছি..."
"...পাঁচ মিনিট পরে ভয়ংকর কিছু ঘটবে।"
---
মিতু বলল,
"অর্থাৎ এটা আমাদের মানসিক প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা হতে পারে?"
"সম্ভব।"
"তবে নিশ্চিত নই।"
---
মারুফ বললেন,
"অনিশ্চিত অবস্থায় সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্তই নেওয়া উচিত।"
মেহেদী মাথা নাড়ল।
"আমি একমত।"
"তাই সবাই বেরিয়ে যান।"
---
"আর তুমি?"
---
"আমি থাকব।"
---
"একদম না!"
মারুফ কঠিন গলায় বললেন।
"আমি আমার টিমের কাউকে এখানে রেখে যাব না।"
---
মেহেদী কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।
তারপর বলল,
"তাহলে আমরা কেউই যাব না।"
---
ঠিক তখনই মিতু একটি দেয়ালের পাশে ঝুঁকে পড়ল।
"একটু দাঁড়াও!"
সে দেয়ালে লাগানো বায়ু বিশ্লেষক যন্ত্রের দিকে তাকাল।
"ঘরের অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিক।"
"কোনো বিষাক্ত গ্যাস নেই।"
"তাপমাত্রাও স্থির।"
---
মারুফ বললেন,
"তবুও সাবধান থাকো।"
---
কাউন্টডাউন...
00:02:18
---
হঠাৎ ঘরের মাঝখানের মেঝে কেঁপে উঠল।
সবাই অস্ত্র তাক করল।
কিন্তু কোনো বিস্ফোরণ হলো না।
বরং মেঝের একটি বৃত্তাকার অংশ ধীরে ধীরে নিচে নেমে গেল।
ভেতর থেকে উঠে এল একটি কাঁচের সিলিন্ডার।
সিলিন্ডারের ভেতরে একটি কালো ফাইল।
---
ফাইলের ওপর সাদা অক্ষরে লেখা।
PROJECT MIRROR
ORIGINAL PROTOCOL
---
মিতু বিস্ময়ে বলল,
"এটাই কি আসল গবেষণা নথি?"
---
মেহেদী উত্তর দিল,
"এখনও নিশ্চিত নই।"
---
কাউন্টডাউন...
00:00:15
---
সবাই নিঃশ্বাস আটকে অপেক্ষা করছে।
00:00:10
00:00:09
00:00:08
---
মারুফ ট্রিগারে আঙুল রাখলেন।
মিতু ধীরে ধীরে পেছনে সরে গেল।
সৌরভ চোখ বন্ধ করে ফেলল।
---
00:00:03
00:00:02
00:00:01
00:00:00
---
নীরবতা।
এক সেকেন্ড।
দুই সেকেন্ড।
তিন সেকেন্ড।
কিছুই ঘটল না।
কোনো বিস্ফোরণ নয়।
কোনো বিষাক্ত গ্যাস নয়।
কোনো লকডাউনও নয়।
---
তারপর স্পিকারে আবার নাদিয়ার কণ্ঠ ভেসে এল।
"অভিনন্দন।"
"তোমরা প্রথম দল..."
"...যারা ভয়কে সত্য বলে ধরে নিয়ে পালিয়ে যাওনি।"
---
মেহেদী ধীরে বলল,
"এটা ছিল একটি মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা।"
---
নাদিয়া উত্তর দিলেন,
"হ্যাঁ।"
"কারণ যে তদন্তকারী নিজের ভয়কে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না..."
"...সে কখনো সত্যকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।"
---
কাঁচের সিলিন্ডারটি খুলে গেল।
মেহেদী ধীরে কালো ফাইলটি হাতে নিল।
ফাইলের প্রথম পাতায় বড় অক্ষরে লেখা ছিল,
«"Project Mirror-এর উদ্দেশ্য ছিল অপরাধী তৈরি করা নয়।"»
«"উদ্দেশ্য ছিল এমন তদন্তকারী তৈরি করা, যাকে প্রতারণা করা অসম্ভব।"»
মেহেদীর চোখ বড় হয়ে গেল।
তার নিচে আরও একটি বাক্য।
«"Subject-17 ছিল প্রথম সফল ফলাফল।"»
আর শেষ লাইনে...
«"কিন্তু Subject-19 প্রমাণ করে দিয়েছিল, একই পদ্ধতি একজন অসাধারণ তদন্তকারী যেমন তৈরি করতে পারে, তেমনি একজন অসাধারণ অপরাধীকেও তৈরি করতে পারে।"»
মেহেদী ধীরে ফাইলটি বন্ধ করল।
এখন সে বুঝতে পারছে...
এই খেলা শুধু একজন সিরিয়াল অপরাধীকে ধরার ছিল না।
এটি ছিল একই পরীক্ষার দুই বিপরীত ফলাফলের মুখোমুখি হওয়ার গল্প।
একজন...
সত্যের জন্য লড়েছে।
আরেকজন...
সত্যকে নিজের অস্ত্রে পরিণত করেছে।
চলবে...
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।