Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

পর্ব ৬০: মৃত মানুষের কন্ঠ ( কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া)

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (11,422 পয়েন্ট)   1 দিন পূর্বে "উপন্যাস" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!
কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া

পর্ব ২৭: মৃত মানুষের কণ্ঠ

অঘোরী রুদ্রের মুখে "M-7" শব্দটা শোনার পর মেহেদী এক মুহূর্তের জন্যও নিজের বিস্ময় প্রকাশ করল না। বরং সে লক্ষ্য করল লোকটার চোখ। একজন মানুষ যখন মিথ্যা বলে, তখন তার চোখ, শ্বাসপ্রশ্বাস, মুখের ক্ষুদ্র পেশির নড়াচড়া অনেক কিছু বলে দেয়। কিন্তু রুদ্রের চোখ ছিল অস্বাভাবিক শান্ত। যেন সে আগে থেকেই জানত এই মুহূর্তটা আসবে।

রুদ্র ধীরে ধীরে আশ্রমের সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামল। চারপাশের লোকজন তার পা ছুঁয়ে সালাম করছে। কেউ ফুল দিচ্ছে, কেউ কান্না করছে। একজন মহিলা হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, "বাবা, আমার ছেলেটার সঙ্গে আর একবার কথা বলিয়ে দিন।"

রুদ্র মহিলার মাথায় হাত রেখে শুধু বলল, "আজ রাতেই সে আসবে।"

মহিলার মুখে সঙ্গে সঙ্গে আশার আলো ফুটে উঠল।

মেহেদী ফিসফিস করে বলল, "এটাই ওর সবচেয়ে বড় অস্ত্র। মানুষকে অলৌকিক কিছু দেখানোর আগে ওদের আশা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করছে।"

মিতু মাথা নাড়ল। "এটাকে সাইকোলজিতে Suggestion Effect বলা হয়। কাউকে আগে থেকেই কোনো কিছুর জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করে দিলে, পরে সে অস্পষ্ট ঘটনাকেও সেই অর্থে ব্যাখ্যা করতে শুরু করে।"

সৌরভ বলল, "মানে মানুষ যা দেখতে চায়, সেটাই দেখতে শুরু করে?"

"অনেক ক্ষেত্রেই তাই," মিতু উত্তর দিল।

ঠিক তখন রুদ্র আবার মেহেদীর দিকে তাকিয়ে বলল, "তুমি কি আজ রাতের অনুষ্ঠান দেখবে?"

মেহেদী শান্ত গলায় বলল, "দেখব। তবে বিশ্বাস করতে নয়। বুঝতে।"

রুদ্র হালকা হাসল। "বিজ্ঞান সবকিছুর উত্তর দিতে পারে না, ছেলে।"

মেহেদীও হাসল। "আর অন্ধবিশ্বাস কোনো প্রশ্নই করতে পারে না।"

চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজন ফিসফিস শুরু করল। কেউ বলল, "ছেলেটা সর্বনাশ ডেকে আনছে।" আবার কেউ বলল, "বাবার সঙ্গে তর্ক করলে ভালো হবে না।"

সন্ধ্যা নামতেই আশ্রমের মাঝখানের বড় হলঘর মানুষে ভরে গেল। সব জানালা বন্ধ। শুধু মোমবাতির আলো। ধূপের ঘন ধোঁয়ায় পুরো ঘর ঝাপসা।

মেহেদী নিচু গলায় বলল, "ধোঁয়া যত বেশি হবে, মানুষের চোখ তত বেশি বিভ্রমে পড়বে। আলো-ছায়ার ভুল ব্যাখ্যাও বাড়বে।"

মিতু লক্ষ্য করল, ছাদের চার কোণে খুব ছোট কালো রঙের কিছু বসানো আছে।

সে মোবাইলের ক্যামেরা জুম করে বলল, "ওগুলো কী?"

মেহেদী তাকিয়ে বলল, "ক্যামেরা না... ছোট স্পিকারও হতে পারে।"

অনুষ্ঠান শুরু হলো।

রুদ্র মন্ত্র পড়তে লাগল। কয়েক মিনিট পর সে একজন বৃদ্ধকে সামনে ডাকল।

"তুমি কাকে দেখতে চাও?"

বৃদ্ধ কাঁদতে কাঁদতে বললেন, "আমার স্ত্রীকে।"

ঘরের সব আলো নিভে গেল।

মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য সম্পূর্ণ অন্ধকার।

তারপর দূরের সাদা পর্দার ওপর অস্পষ্ট একটা নারীর অবয়ব দেখা গেল।

হলঘর কেঁপে উঠল।

"ওই তো!"

"ওই তো মানুষটা!"

কেউ কাঁদছে, কেউ প্রণাম করছে।

বৃদ্ধ লোকটি কাঁদতে কাঁদতে সামনে এগোতে লাগলেন।

ঠিক তখনই সেই নারীকণ্ঠ ভেসে এল।

"আমি ভালো আছি..."

"তুমিও চলে এসো..."

বৃদ্ধ লোকটি যেন সম্মোহিতের মতো হাঁটতে শুরু করলেন।

কিন্তু হঠাৎ মেহেদী সামনে লাফ দিয়ে তার হাত ধরে ফেলল।

"থামুন!"

রুদ্র গর্জে উঠল, "ছেড়ে দাও!"

মেহেদী বৃদ্ধকে টেনে নিজের দিকে আনল।

ঠিক সেই মুহূর্তে বৃদ্ধ যেখানে পা রাখতে যাচ্ছিলেন, সেখানে মেঝের কাঠ ভেঙে নিচে একটি গভীর গর্ত দেখা গেল।

গর্তের নিচে বাঁশের ধারালো খুঁটি।

সৌরভ চিৎকার করে উঠল, "ফাঁদ!"

ঘরের মানুষ আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি শুরু করল।

মারুফ দ্রুত টর্চ জ্বালালেন।

আলো পড়তেই পর্দার নারীটি অদৃশ্য হয়ে গেল।

মিতু ছাদের দিকে টর্চ ধরল।

এক কোণে কাচের পাতলা শিট আর বিশেষ কোণে বসানো একটি শক্তিশালী প্রজেক্টর দেখা গেল।

মেহেদী শান্তভাবে বলল, "এটা কোনো আত্মা না। এটা Pepper's Ghost নামে পরিচিত বহু পুরোনো অপটিক্যাল ইলিউশন। সঠিক কোণে কাচ ও আলো ব্যবহার করলে মানুষ ভাসমান অবয়ব দেখতে পায়।"

লোকজন স্তব্ধ।

রুদ্রের কয়েকজন শিষ্য পালানোর চেষ্টা করতেই মারুফ তাদের ধরে ফেললেন।

কিন্তু...

রুদ্র কোথাও নেই।

মাত্র কয়েক সেকেন্ডের অন্ধকারে সে উধাও হয়ে গেছে।

মেহেদী আশ্রমের মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসল।

ধূপের ছাইয়ের মধ্যে একটি ছোট ধাতব টুকরো পড়ে আছে।

সে সেটা হাতে তুলে নিল।

ওটার গায়ে খোদাই করা মাত্র দুটি অক্ষর।

NX

মেহেদীর চোখ সরু হয়ে এল।

সে ধীরে বলল,

"রুদ্র কোনো একা প্রতারক নয়..."

"...সে NEXUS-এর অংশ।"

ঠিক তখনই মারুফের ওয়্যারলেসে খবর এলো।

"স্যার, গ্রামের পশ্চিম দিকের শ্মশানে আরেকটা লাশ পাওয়া গেছে।"

"অবস্থা আগেরগুলোর মতোই..."

মেহেদী উঠে দাঁড়াল।

"তার মানে..."

"আজ রাতের অনুষ্ঠানটা শুধু আমাদের ব্যস্ত রাখার জন্য ছিল।"

"আসল খুনটা ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে।"

চলবে...
আমি প্রিন্স ফ্রেরাসে, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 8 মাস 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 566 টি লেখা ও 10 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 11422। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4434
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া পর্ব ৩৬: মৃত মানুষের আঙুলের ছাপ ফরেনসিক রিপোর্টের কপি টেবিলের ওপর রাখা। ঘরের সবাই একই কাগজের দিকে তাকিয়ে আছে। Fingerprint Match: ৯৭.৮% Reference Record: Professor Afsar Rahman মারুফ ধীরে বললেন, "এটা �[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া পর্ব ৪২: কোড ১১৭ ইটভাটার অফিসঘরে সবাই এখনো "১১৭" সংখ্যাটার দিকে তাকিয়ে। সৌরভ নীরবতা ভেঙে বলল, "এটা কি রুম নম্বর?" মিতু মাথা নাড়ল। "হতে পারে। আবার কোনো ফাইল নম্বরও হ�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
4 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া পর্ব ৪১: পর্ব দুই ঘড়ির পেছন থেকে পড়ে যাওয়া খামটি কিছুক্ষণ কেউ স্পর্শ করল না। ঘরের বাতাস যেন ভারী হয়ে উঠেছে। মেহেদী ধীরে একটি গ্লাভস পরে খামটি হাতে নিল। "আগের ম�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া পর্ব ৩৯: আগুন যে সত্য লুকিয়ে রেখেছিল সকালের প্রথম আলো জানালা দিয়ে ঢুকলেও থানার তদন্তকক্ষে কারও চোখে ঘুম নেই। টেবিলের ওপর ছড়িয়ে আছে পুরোনো ছবি, ফরেনসিক রিপোর্�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

কেস ৪: অঘোরী রুদ্রের ছায়া পর্ব ৩৮: যে জীবন কখনো ছিল না মেহেদী দীর্ঘক্ষণ পরিচয়পত্রটার দিকে তাকিয়ে রইল। ছবিটা তারই। অন্তত প্রথম দেখায় তাই মনে হয়। কিন্তু যত ভালো করে দেখছে, ততই ছোট ছোট পা�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    3532 পয়েন্ট

    4 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    176 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    2243 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    111 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. ফাহিম আহমাদ

    243 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    12 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

...